ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০

জয়পুরহাটে গ্রাম বাংলা সাংস্কৃতিকে ধরে রাখার চেষ্টা

বিভাগ : দেশের খবর প্রকাশের সময় :৩১ অক্টোবর, ২০১৯ ২:৪৯ : অপরাহ্ণ

এম রাসেল আহমেদ, জয়পুরহাট:

ৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে স্বাধীন বাংলায় আজও একই তালে গ্রাম্য সাংস্কৃতিকে চিরজীবিত করেই চলছেন জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলা মাত্রাই গ্রামের মৃত কোরবান আলীর ছেলে মোঃ খয়বর আলী (৬০) দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়ায় অল্প শিক্ষিত এই মানুষটি ছোট বেলা থেকেই অন্যেও বাড়িতে বাৎসরিক কাজ করেছেন, করেছেন গরুর গাড়ি চালানোর থেকে শুরু করে রাখালী কাজ মাঠে মাঠে গরুর পাল ছেড়ে দিয়ে মনের আনন্দে গান করতো জারি সারি ভাটিয়ালী গান তার গান শুনে মগ্ধ সে সময়ের মানুষ তারা বলতো তুমি শিল্পী হতে পারবে, রেডিও সেন্টার যোগাযোগ কর দরিদ্র রাখাল কি পারবে রেডিও সেন্টারে গিয়ে যোগাযোগ করতে? তাই তার সেখানে যাওয়া হয়নি সে কালে গ্রামে গ্রামে নাটক, পালাগান , যাত্রা হতোসে যাত্রা পালা দেখতে যেত এবং সেই ডাইলগ গুলো মাঠে এসে সবাইকে শুনাতোমাঝে মাঝে নিজের শরীরে বিভিন্ন ভঙ্গিমা করে  মানুষকে আনন্দ দিত এভাবে চলতে চলতে তিনি একদিন খুলনা ইস্ট বেঙ্গল সার্কাসে যোগ দিলেন খুলনা ইস্ট বেঙ্গল সার্কাস তার এলাকায় শো করতে এসেছিল সেখানে তিনি বিভিন্ন পশুর ডাক সহ ঝুলন্ত চেয়ার খেলা থেকে শুরু করে ঝুলন্ত রডের খেলা দেখাতেন এক বছর তাদের সাথে শো করার পর সার্কাস দলটি লোকসানের মুখ দেখেকিছু দিন বাড়িতে কাটার পর আবার যোগ দিলেন সবুজ সার্কাস যাত্রা দলে তার পর একে একে মৌসুমী অপেরা, শাপলা অপেরা কাজ করেনসেখানে  তার কাজ ছিল কমেডি করার সে সময় যাত্রার মান ভালো থাকায় প্রায় ৩০ বছর মানুষকে আনন্দ দিয়ে গেছেন ধীরে ধীরে যাত্রা পালার মান খারাপ হতে থাকে তিনি সেখান থেকে অবসর গ্রহন করেন অবসর গ্রহন করা তার লাগেনি কোন যাত্রা পালার সাথেও নেই তাই নিজেই ঠিক করে গ্রাম বাংলার এই সাংস্কৃতি কিভাবে ধরে রাখা যায়, সেই চিন্তা মাথায় আসেএবার শুরু হলো যাত্রা পালা পরিচালনার কাজ গ্রামের বিভিন্ন লোকদের নিয়ে টিম তৈরী করে বিনা লাভে নিছক আনন্দের ছলে শুরু হয় তার জীবন যাত্রা পালায় সংসার চলেনা তাই তাকে খুজে নিতে হয় বিভিন্ন ব্যবসা ব্যবসার পাশা পাশি যখন সুযোগ পান বেড়িয়ে পড়েন আপন গতিতে গ্রাম্য সাংস্কৃতি রক্ষার কাজেবিভিন্ন অনুষ্ঠান, স্কুল, কলেজ পাড়ায় পাড়ায় চলে তার কর্ম একদিন দেখলাম কিছু লোকে ভির কাছে গিয়ে শুনতে পাই কুকুরে চিৎকার, ভির ঠেলে কাছে  এসে দেখি কুকুর নয় মানুষ, কুকুরের জীবনী বলছে মনোযোগ দিয়ে অনুষ্ঠান দেখলাম, শেষ হলে তার সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তার জীবনী সংক্ষিপ্ত শুনলামতাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম কোন দিন কোন কেউ আপনার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলো কি? তিনি  বললেন  হ্যাঁ, কিন্তু আমি কোন পত্রিকা পড়তে পারিনা লোকে বলে আমাকে নাকি টিভিতে দেখা গেছে কিন্তু আমি দেখিনি নিজেকে তাকে আরো জিজ্ঞাস করলাম এই সব করে তো আপনার কোন লাভ নেই তবে এসব করেন কেন? তিনি বললেন সবাইতো মানুষের হাসি দেখার জন্য একটা মানুষের মন নিমিষেই খারাপ করে দেওয়া যায় কিন্তু ভালো করতে অনেক সময় লাগে তাই আমার ছোট্ট প্রয়াশ সবাইকে যেন হাসি খুসি রাখতে পারিএই হাসির মানুষটিকে আমরা কতটা মুল্যায়ন করতে পারি জানিনা তার মতে তার বয়স প্রায় শেষের দিকে কয়দিন বাঁচবে বলতে পারেনা এই বয়সে তার দেহে অনেক রোগ বাসা বেধেছে কিন্ত তিনি হাল ছাড়েনি ,তিনি বলেন আমি যা করছি তা না করতে পাড়লে হয়তোবা মরেই যাব আমি চাই এই হাসির মানুষটি তার হাসির মাঝে মানুষের জীবনে আজীবন বেচে থাকুন তার দীর্ঘায়ু কামনা করছি

 

 

Print Friendly and PDF

ফেইসবুকে আমরা