এই মাত্র পাওয়া :

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯

শিরোনাম

  •          

গাইবান্ধায় শীতের আমেজ : শহরের বিভিন্ন মোড়ে পিঠা প্রেমিদের উপচে পড়া ভীড়!!

বিভাগ : লাইফস্টাইল প্রকাশের সময় :8 November, 2019 9:48 : AM

সঞ্জয় সাহা, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধায় বইছে শীতের আমেজ : শহরের বিভিন্ন মোড়ে পিঠা প্রেমিদের উপচে পড়া ভীড়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চেয়ে উত্তরের জনপদ গাইবান্ধায় খানিকটা আগে থেকেই শীত পড়তে শুরু করেছে। আর এই শীতের আগমনে সকাল ও বিকেলে দু’বেলা শহরের বিভিন্ন অলি, গলি, পাড়া মহল্লা ও রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে এলাকায় বসছে ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান। এসব দোকানে দেখা যায় পিঠা প্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়। শীতের সকালে ভাপা পিঠা এবং বিকেলে ভাপা পিঠা ও চিতই পিঠা খেতে পিঠা প্রেমীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে এসব পিঠার দোকান।

সকালটা ঘন কুয়াশার মাঝ দিয়ে শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে গরমের প্রকোপ। আবার বিকেল গড়ালেই শরীরে এসে উঁকি দেয় অগ্রায়ণ মাসের হালকা শীত। আর এই শীতে গ্রামের মানুষের মজাদার খাবার হলো ভাবা পিঠা, চিতই পিঠা, তেল পিঠা। কিন্তু কালের ক্রমে এসব পিঠা উৎসব গ্রাম অঞ্চলগুলো থেকে প্রায়ই উঠেই গেছে। এখন আগের মতো বাসা-বাড়িতে এসব পিঠার আয়োজন না থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে শহর গ্রামঅঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে। পিঠার দোকানে ভীড় করছেন ধনী-গরীবসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ।

হাটি হাটি করে শীত এগিয়ে আসছে। আর পিঠার কদর বাড়ছে। শীত প্রধান এই বাংলাদেশে পিঠার কদর আজকের নয়। আদিকাল থেকেই কার্তিকের এই নবান্নের দেশে পিঠা পায়েস সৌখিন খাবার হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। বহু পদের পিঠা তৈরি করে আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে খাওয়া-দাওয়া বাঙ্গালীর ঐতিহ্যকে বহন করে। গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ। গোয়াল ভরা গরু এই ছিল গৃহস্থের গৌরব। কিন্তু আজ সেই দৃশ্য প্রায় তেমন চোখে পড়ে না। ক্ষুধা আর দারিদ্রতা সবকিছু যেন ম্লান করে দিচ্ছে। মানুষের মাঝে তার দায়িত্ববোধটুকুও হারিয়ে যাচ্ছে। দ্রব্য মূল্যের লাগামহীন ঘোড়া তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে সর্বত্র। সাধ থাকলেও অনেকে সাধ্যহীনতায় ভুগছে। গ্রামের মানুষগুলো জীবন জীবিকার তাগিদে ভীড় করছে শহরে। বিচিত্র এই শহরে বিচিত্র মানুষ কর্মকান্ড দিবসের অবসরে অনেকেই ফুটপাতে ভাপা পিঠা খেতে বসছে।

শহরের ফুটপাত, বিভিন্ন পাড়া মহল্লার মোড়ে, রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ভাপা পিঠা ও চিতই পিঠা ব্যবসায়ীদের দেখা যাচ্ছে। অল্প পুঁজিতে দারিদ্রতার কষাঘাতে অনেক পরিবার এ ব্যবসার সাথে জড়িত হচ্ছে। ভেজালের যুগে অনেকেই ক্ষুন্নিবৃত্তি নিবারণের লক্ষ্যে মাত্র ৫ টাকার ১টি ভাপা পিঠা খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করছে। শীতের সকালে বা সন্ধ্যায় পিঠা বেশ মুখরোচক। এই ভাপা পিঠা বিক্রি করে অনেকেই সংসার পরিচালনা করছে।

পিঠার কথা মনে হলেই গ্রামের সেই ঢেঁকির শব্দ আজও কানে বাজে। কিন্তু শহর ও শহরতলী এলাকায় ঢেঁকি কি অনেক ছেলে-মেয়ে তা হয়তো বলতেই পারবে না। চালের কলে ধান ভেঙ্গে, আটার কলে চাল গুড়ো করে অতি অল্প সময়েই ভাপা পিঠা বানানো যায়। বর্তমানে কষ্টের মধ্যে কেউ যেতে চায় না। ফুটপাতের পিঠা দিয়েই অনেকে সকালের নাস্তা সেড়ে নেন। গরম গরম ভাপা পিঠা ও চিতই পিঠা দিয়ে সরিষা বাটা, শাক বাটা, আলু ভর্তা দিয়ে খাওয়ার সাদই আলাদা।

শহর ও শহরতলীর আশেপাশে বিভিন্ন পিঠা দোকানে সকাল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত ক্রেতা সাধারণের ভীড় লক্ষ্য করা যায়। শীতের সাথে সাথে ভাপা পিঠা ও চিতই পিঠার কদর বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই পিঠা ব্যবসার সাথে অনেক দরিদ্র পরিবার তাদের জীবনকেও বেঁধে নিচ্ছে। কর্মব্যস্ত সাধারণ মানুষ কাজের অবসরে ক্ষুধা নিবারণে পিঠা খেয়ে তৃপ্তি অনুভব করছে।



ফেইসবুকে আমরা