এই মাত্র পাওয়া :

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯

শিরোনাম

  •          

ভুল বুঝেছি তোমায়…

বিভাগ : ফিচার প্রকাশের সময় :17 November, 2019 2:40 : PM

এম রাসেল আহমেদ।

অবাক ব্যাপার হলো, আমার ব্রেকাপের পর আমার পিয়া আমায় তার বিয়ের কার্ড দিয়ে বলে বিয়েতে আসতেই হবে। ভাবলাম এ ঘোর অপমান! কিছুক্ষন চুপ থাকার পর বললাম আসতেই হবে? বলল কাজ না থাকলে এসো। সে জানতো আমার কোন কাজ নাই। বাহানা করলে বুঝতে পারবে, বলবে ব্রেকাপ হয়েছে বলে আমি তাকে ক্ষমা করতে পারিনি। সে কথার কথায় বলেছিল তাকে ক্ষমা করতে , ভুলে যেতে।

অনেক কথা হলো আমাদের দুজনার মাঝে আর কোনদিন কথা হবেনা বলে। যেহেতু তাকে আর কোনদিন এভাবে পাবনা তাই শেষ দেখা বলে তার কাছে কিছু সময় চেয়ে নিলাম। বললাম আমায় ভুলে যেতে তোমার কত সময় লেগেছে? বলল প্রথম প্রেম ভুলার নয়। তোমার কথা মনে করতে চাইনা, কথাগুলো মনে পড়ে যায় সদা সর্বদা, তখন নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার ঊপক্্রম হয়। বললাম ফিরে এসোনা কেন? ফিরে আসার পথ নেই বলল আরো বলল আজকের সমস্ত সময়টুকু তোমার।

আমি আর কি বলতে পারি তার পায়ে ধরে পড়ে যাব? না না তা সম্ভব নয়। আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় যখন ভাবি সে পরের ঘরে যাবে। যেটা সব থেকে বেশী মনে হয় তাকে কেউ আজীবনের জন্য আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে যাবে। তাকে কেউ ছোয়া তো দুরের কথা বাঁকা চোখে তাকালে তার খবর হয়ে যেত। শুধু তাকানোই নয় ক”দিন বাদে ছুয়ে দিকে তাকে। আমার জ্বালা ঐ একটাই।

তাই বলে সেতো আর চিরকুমারী থাকবেনা। তার জীবন তাকেই বয়ে নিয়ে যেতে হবে। কথা দিয়েছিলাম সারা জীবন আগলে রাখবো সে কথা রাখতে পারিনি। তার দিকে লজ্জায় তাকাতে পারছিনা, তার কি সেই কথা মনে পড়ে যাচ্ছে কিনা মাঝে মাঝে ভাবছি। আমি অপরাধী। আমিতো চেয়েছি আমার মতো করে তাকে সুখে রাখতে কিন্তু তার পরিবার সেটা বুঝতে চায়না। বলে যতই ভালো আর পড়াশুনা জানা ছেলে হোক তার সাথে মেয়ে মেয়ে বিয়ে দিবোনা।

আমার থেকে ওয়াদা করে নিয়েছিল তাদের মেয়েকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে। তাদের মুখের কথা য় বলি , তারা জানে আমি ভালো ছেলে আর ভালো ছেলেরা কারো কথা ফেলতে পারেনা। সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে। যাই হোক পিয়াকে ফেরৎ দিয়েছি বলে পিয়ার বিয়ের দাওয়াত পত্র পাঠিয়েছে তার বাবা। সেটা পিয়া নিজ হাতে দিতেই এসেছে।

বাবা বলেছিল ভালো ছেলে কার্ডটা তার হাতে দিও সে আসবে। এতো বিশ্বাস পায় কি করে পিয়ার বাবা? কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিতে তার এতোটুকুও বাধেনি? আর কি বলব নিজের লোকদেরকেই মানুষ এভাবে বিশ্বাস করেনা আমায় করছে, কিন্তু প্রিয়ার বিয়ে আমার সাথে দিবেনা কি লোক মাইরি! অনেক কথা বললাম প্রিয়ার সাথে, বললাম যে মানুষকে বিয়ে করছো তারতো কোন দোষ নেই তাই তার সাথে ভালো ব্যবহার করো আর তার পাওনা তাকে বুঝিয়ে দিও, কোন রকম ফাক ফক্কর রাখবেনা। মৃদু হাসি দিয়ে বলল তোমার মুখ থেকে শুনছি কথাগুলো আমাতো বিশ্বাস হচ্ছে না। মনে হচ্ছে মামুন ভাই হাসপাতালে যাই ই নি।

মামুন হচ্ছে তার পাড়াতো ভাই তাকে পছন্দ করতো, আমিই তাকে মেরে হাসপাতাল পাঠিয়েছিলাম। বিচার হয়েছির আমার, মামুনের সঙ্গে কোলাকুলিও করতে হয়েছিল। ভাবা যায় শত্রুর সাথে কোলাকুলি! কথাগুলো যখন মনে হলো তার কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিব ভাবলাম। মামুনের অনেক আগেই বিয়ে হয়েছে, একটা মেয়ে হয়েছে তার। যথেষ্ট ভদ্র সভাবের মানুষ মামুন এখন আফসোস হচ্ছে। আজকের সমস্ত খাবারের বিল প্রিয়াই দিচ্ছে বললাম শেষ বিলটা আমি দেই? বলল না, বাবার বারন আছে।

আমি কি বলতে পারি? সেই মানুষটা আমায় আর বাঁচতে দিবেনা মনে হয়, বলল কিছু বললে? না বলে চেপে গেলাম। ঠিক আছে সমস্ত বিল যেহেতু তোমার মানে তোমার বাবার সেহেতু কিছু টাকা উড়াই কি বল? কোন প্রতিবাদ নাই কি বলব আমি বুঝার ভাষা কিংবা লেখার ভাষাও নেই, খুব গালাগাল দিতে মন চায়, দিলাম না , আমায় করুনা করছে মনে হয়। করতেই পারে আমায় আমি কি তাদের বাড়ির জামাই? আমার কিন্তু মনে ছিলোনা তার সাথে আমার ব্রেকাপ হয়েছে। প্রেম করার পর যদি কেউ এক পক্ষ বা উভয় পক্ষকে ব্রেকাপ বলে সেটা কিন্তু ব্রেকাপ আপ নয়।

এক বছর পরেও যদি দেখা হয় তবে সব ভুলে আবার আগের মতোই হয়ে যাবে। আমার প্রথমে কথাটা সত্য বলে মনে হলো কি›তু সেতো বিয়ে করছে আমায় ছেড়ে এখন কি করবো? আমিও খুব শক্ত হয়েছি ভাবলাম বিয়ে করুক সে ,আমিতো ত্যাগ করতে শিখেছি, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ ভোগে সুখ নাই , কথাটা মুখে বলাই যায় কিন্তু আমি এইটা ফলো করতে গিয়ে ধুকে ধুকে মরছি বিরহ জ¦ালায়। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে কে এই কথাটা বলেছিল সালা.. যেহেতু কথা দিয়েছি ফিরানো সম্ভব নয়, দেবদাসের কথা মনে হচ্ছিল আমার কিন্তু মদ-সিগারেট পছন্দ করিনা তাই আর দেবদাস হতে পারবোনা।
অনেক কথাই হলো তার সাথে কিন্তু আমাকে নিয়ে কোন কথাই বলল না সব শুধু তার আর তার নতুন বরের কথা । তার বিয়ের পর এটা করবে ওটা করবে যতসব মাথায় দুধ গরম হবে যা তাপমাত্রা ছিল। অনেক কথা সেসব বলা যাবেনা, আমি কিন্তু কাঁদিনি প্রিয়ার সামনে, বললাম তো খুব শক্ত হয়েছি আমি। সেদিন আমার জীবন থেকে চির বিদায় নিয়ে চলে গেল পিয়া আর যাওয়ার আগে বলে গেল আমাকে আসতেই হবে তার বিয়েতে, আমি না গেলে বিয়ে করবেনা সেটাও বলল।

আচ্ছা আমাকে কি মানুষ ভাবে না অন্য কিছু ! আমি কি তাদের জমি চাষি? তার আর বাপের সব কথা শুনতে হবে! ভাবছি যাব না আমায় ছেড়েইতো যাচ্ছিস তুই বিয়ে না করলে আমার কি, শুধু শুধু তোর বাপের টাকা নষ্ট হবে, আমার তো বেশ হবে। সারা রাত ঘুম নেই প্রিয়ার কথাই ভাবছি। দুদিন পর পিয়ার গায়ে হলুদ সেদিনও যাইনি কিন্তু বুকটা ফেটে যাচ্ছে।

কেউ কি জীবনে বিষ খেয়েছে খেলেই জানবে তার জ্বালা ! তার চেয়ে কোন অংশে কম নয় এ জ্বালা! শুনেছি জীবনে একবার বিষ খেলে আর নাকি কেউ খায়না, কিন্তু বিষ খাওয়ার পর গলায় দরি দিতে দেখেছি। আমার বান্ধবি আমায় আমার শৈশব থেকে যৌবন সব শিখালো আমায় না পেয়ে অন্য ছেলের সাথে প্রেম করলো, তাকে বিয়ে করতে না পেরে বিষ খেল, অন্য যায়গাতে বিয়ে হলো বিয়ের পর বাচ্চা হলো, প্রেমিক পুরুষের ও বিয়ে হলো তার এক বাচ্চা হলো। তাদের উভয়ের সংসারে ভাঙ্গন ধরলে তাদের ডিভোর্স হলো কিছুদিন পর তারা দুই জন এক হলো , বিয়ে করলো একে অপরকে। তাদের সংসার এতো ভালো হলো যে মনেই হয়নি তাদের পেছনে কোন স্মৃতি ছিলো। কিন্তু হটাৎ এক ঈদের রাত্রে গলাই দরি দিয়ে আত্মহত্যা করলো।

আমি সেই বান্ধবিকে দেখতেও যাইনি রাগে। আমার ও মনে হচ্ছে দরি দিব কিন্তু কেন? আজ প্রিয়ার বিয়ে, ভাবছি এলাকা ছেড়ে দুরে কোথাও চলে যাব। অনেক ভাবলাম কোথাও যেতে পারলাম না। প্রিয়াকে বিয়ের সাজে কেমন লাগে তাই দেখার আগ্রহ জন্মায় আমার মধ্যে। হালকা সেজে বিয়ে বাড়ির উদ্দ্যেশে বের হলাম, একবার ভাবি যাব আরেকবার ভাবি যাবনা। বিয়ে বাড়িতে আসলাম,অনেক মানুষ বিয়ে বাড়িতে, আনন্দঘন মহুর্ত, এখন বুঝতে পারলাম কেন তার বাবা আমার সাথে তার মেয়ে বিয়ে দেয়নি। তার সাথে বিয়ের কোন যোগ্যতাই নেই আমার তবে আমি ভালোবাসি তাকে সেই হিসাবে ভেবেছিলাম।

প্রিয়া অনেক হাসি খুসি, আমি ভাবি সে যদি আমায় ছেড়ে খুসি থাকতে পারে আমি কেন অস্থির আছি। তাদের বাসার পরিবেশ দেখে মনে হয় যে আমার সাথে বিয়ে না হয়ে ভালোই করেছে সে ,কারন তাদের তুলনাই কিছুই নেই আমার তবে কেন আমার প্রেমে পড়েছিল সে? আমি দেখতে পেলাম বিয়ে সাজে কত সুন্দর সে, কেউ যেন তার প্রেমিকার বিয়েতে না যায় মনে মনে এটাই ভাবছি।
এক সময় ভাবলাম এখানে থাকা ঠিক হবেনা আমি বরং চলেই যাই। আমাকে তাদের বাসার অনেকেই চিনতো কিন্তু তারা তাদের সবাইকে নিয়ে ব্যস্ত কেউ ভালো করে কথাও বলল না। প্রিয়ার বাবার সাথে দেখা সে হাসি মুখে আমার সামনে এসে আমার খবর জানতে চাইলো। আমিও তাদের থেকে বেশি কিছু আশা করিনি। একজন মেয়ের প্রেকিকে কে সম্মান করবে?

অনেক দেখেছি মেয়ের প্রেমিককে খুন করতে, গুম করতে, পুলিশে দিতে কিন্তু সে ক্ষেত্রে তারা তা করেনি। কিছুক্ষন পর তার মায়ের সাথে দেখা, সে অনেক ভালো মনের মানুষ। আমাকে একটা রুমে নিয়ে গিয়ে বসায় আর ভালো মন্দ জিজ্ঞাস করে। আর বলে তাদের কথায় কোন কিছু যেন না মনে করি। তাদের মনে মধ্যে কি চলছে বুঝতে পারছিনা । সে চলে গেলে আমি সবার আড়ালে প্রিয়াকে দেখতে যাই, দেখি পিয়ার মিস্টি মুখখানি।

নিজেকে কোনরকম সামলে রেখে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হই। মনের দু:খ কাউকে বলতে পারিনি তাই বাড়িতে এসে কিছু না খেয়ে শুয়ে পরি। ঘুম আসেনা। দিনের বেলা শোয়ার অভ্যাস নেই ,এপাশ ওপাশ করে সময় পার করছি আর ভাবছি প্রিয়ার বিয়ে এতোক্ষনে শেষ। ছয় বছরের প্রেম ছিল আমাদের, তার এক কথাই ব্রেকাপ করেছি আমি, কারন তাকে সত্যিই ভালোবাসতাম। ভাবছি প্রিয়ার মুখখানি আবার দেখি তাই তার বিয়ে কার্ড হাতে নেই, কার্ডে বর কনের ছবি থাকবে ভেবে হাতে নিয়ে খুলে দেখি আর দেখতেই নিজের চোখকে মনের সাথে বিশ্বাস করাতে পারছিনা, ভাবছি আমি প্রিয়ার বিরহে অন্ধ হয়েছি। কিছুক্ষন দেখলাম, ভালো করে পড়লাম, এর পরেও বিশ্বাস করতে না পেরে প্রিয়ার বাসার উদ্দ্যেশ্যে দৌড় দিলাম ।

রাস্তা যেন শেষ হচ্ছেনা, প্রিয়াকে ফোন করবো তার হুস নেই আমার, যদি কথার খেলাপ হয় সেটাও ভাবছি । অনেক দৌড়ালাম , এতোক্ষন বাদে বাসার সামনে পৌছালাম আর পৌছাতেই দেখি পাইচারি করছে প্রিয়া। হাপাচ্ছি.. বকুনি শুরু প্রিয়ার , বলল ঠিক করে কি কোন কাজ করতে পারবেনা জীবনে? আজ আমার বিয়ে সেটা কি মনে ছিলোনা তোমার, কি ভাবো নিজেকে? এতোক্ষনে হুসে আসলাম, আমার মনে হচ্ছে তার পায়ে ধরে ক্ষমা চাই কিন্তু অনেক লোকজন ছিলো, তাকে জড়িযে ধরি পারছিনা , লোক জন আছে , কি বলতে পারি তার সামনে সেটাও পারছিনা ভাবতে ভাবতে কখন যে পরে গেছি জানিনা।

তবে প্রিয়ার মুখ ঠিক মনে করতে পারছি, সে কাঁদছে। বলছে আমায় ভুল বুঝেছো তাইনা, তুমি ছাড়া মরে যাবো জানতেনা, উঠো প্লিজ! কে যেন মুখে পানি ছিটিয়ে দিলো আমার হুস হলো ,সবাই বলছে বর জ্ঞান হারিয়েছে ডাক্তার ডাকতে কিন্তু ডাক্তার লাগবেনা আমি জানি। আমার দোষেই এমন হয়েছে, সেদিন বিয়ের র্কাড দিলো প্রিয়া, ফুরফুরে মেজাজে, সে রকম হলেতো তাকে দেখেই বুঝতাম কেন বুঝলাম না।
শুধু মুখেই বলতে পারি ত্যাগে প্রকৃত সুখ ভোগে সুখ নাই, এখন তো প্রিয়াকে পেয়ে গেলাম এখানে কি বলব সবুরে মেওয়া ফলে? অবশ্যই সবুরে মেওয়া ফলে, তাই ধর্য্য ধরতে হবে। আমি যদি ভুল বুঝে মরে যেতাম বা প্রিয়ার সাথে বাজে আচরন করতাম তবে কি হতো প্রিয়াকে ফিরে পেতাম? আসলে তার পরিবার আমাকে পরীক্ষা করছিলো, প্রিয়ার কথায় বিশ্বাস করতে পারেনি তারা। আমি মানুষ হিসাবে খারাপ ছিলাম না। এখন প্রিয়ার আর আমার বিয়ে হচ্ছে, তার পরে কি আছে তা পরেই দেখা যাক, আই লাভ ইউ প্রিয়া…অভিমানের মৃদু হাসিমাখা মুখ কোন দিন ভুলবনা, ভুলবনা এই দিনটাকে।



ফেইসবুকে আমরা