এই মাত্র পাওয়া :

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯

শিরোনাম

  •          

“না বলা কথার ব্যথা”

বিভাগ : ফিচার প্রকাশের সময় :21 November, 2019 3:20 : PM

গোধুলী বেলায় আলিফ সুর্য ডোবার দৃশ্য দেখছে নদীর পাড়ে বসে । হটাৎ তার পেছনে একটা ছোট বল গড়িয়ে এসে পেছনে লাগে, সঙ্গে একটা ছোট্ট বাচ্চাও ছুটে আসে। পেছনে তাকাতেই দেখে হাসিমাখা মুখ বাচ্চাটি বল নিতে এসেছে। আলিফ বলটি ধরে বাচ্চাকে দিবে বলে বলটি হাতে তুলে নেয়।বাচ্চাটি হাত বাড়িয়ে দেয় বলটি নেওয়ার জন্য ঠিক সেই মহুর্তে আলিফ থেমে যায়, বাচ্চাটি বলে।

আংকেল ,প্লিজ বলটি দেন…..। কোন কথা নেই আলিফের মুখে শুধু সামনে তাকিয়ে আছে। আসলে মেয়েটির পেছনে তার মা সুমা , সুমা হচ্চে আলিফের একমাত্র প্রেমিকা ,৬ বছর আগে চলে যায় তার কাছ থেকে ,তাকে না জানিয়ে। আর মেয়েটি হচ্ছে সুমার মেয়ে মিতু। সুমার চোখের কোনে অশ্রু বেরুবার উপক্রম, আলিফ নির্বাক তাকিয়ে! তাদের মধ্যে কে আগে কথা বলবে এই নিয়ে দিধা- দন্দ্বে পড়ে দুজন। সুমা হটাৎ করে কোথাই হারিয়ে গেল আলিফকে না জানিয়ে সেটাই আলিফ

ভাবছে, আর এটাও ভাবছে যে তাকে ছেরে বিয়ে করেছে সুমা। আজ সে একটি মেয়ের মা কিন্তু তার জন্যে কত মেয়েকে সে না করেছে। আর সুমা কি করে তাকে বলবে যে জোর করে তার পরিবার তাকে
বিয়ে দিয়ে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়। সুমার প্রেমময় কিছু স্মৃতির মহুর্ত মনে পড়ছে আলিফের । এক সাথে ঘুরে বেড়ানো থেকে শুরু করে কত কিছু, কখনো ক্লাস মিস করতনা তারা। একদিন কলেজ বন্ধ ছিল ভুল করে চলে আসে আলিফ কলেজে, বহুক্ষন অপেক্ষার পর সুমার বাড়িতে চলে আসে সে। এর আগে বহুবার সুমাদের বাসায় এসেছিলো সে কিন্তু আজ এসে কেমন একটা বিব্রত কর পরিস্থিতির সম্মুখিন আলিফ। সুমার বাবা- মা কেমন ভাবে তাকিয়ে ছিল ।

সে একটু সাহস পায় তার হাতে কলেজ নোট বুক থাকায়।তাদের ওভাবে তাকানো দেখে নিজেই সব বলতৈ থাকে,আসলে সুমার একটা হ্যান্ড নোট আমার কাছে ছিল সেটাই দিতে এসেছি, আমি কয়দিন কলেজে আসতে পারবনা ।সুমনা কোন কথা না বলে ধীরে ধীরে কাছে আসে আর নোটস নিয়ে চলে যায়। আজ আর দেরি না করে চলে আসে বাড়ির বাইরে আর এসেই হাফ ছেড়ে বাঁেচ। আসলে আজ কি এমন হলো যে বাজে পরিস্থিতির স্বীকার হতে হলো সেটাই ভাবছে।

পরে সুমার মুখ থেকে শুনতে পাই তার বাবা রেগে বলেছিলো ,বাড়িতে দিন দিন উঠতি বয়সের ছেলে আসা শুরু হয়েছে, আমি কি বুঝিনা তুমি কেন বিয়েতে রাজি নও? সে বলেছিলো আলিফের ব্যাপারে কিছু বলবেনা বাবা, সে আমার ভাল বন্ধু। বাবাতো আরো রেগে বলেছিলো ,ভাল বন্ধু না ছাই, লোক মুখে অনেক কথা শুনতে হয় আমায়, তার চেয়ে ভাল তুমি আমার দেখা ছেলেকে বিয়ে কর, জীবনে ভাল থাকবে।

বাবার কথায় কোন প্রতিবাদ না করতে পেড়ে মাডের কাধে দায়িত্ব ছেড়ে দেয়, মা, তুমি কিছু বলবে..। মা আর কি বলবে? কিছু না বলে চলে যায় মা , সুমা পরাজিত প্রায়, মা শেষে তুমিও আমায় বুঝলেনা। বাবা ঠিক আছে তাদের আসতে বল রাগ করেই কথাটা বলেছিলো, কিন্তু রাগের পরিনাম ভালো হয়না প্রমাণ সুমা। বাবার উপর রাগ করে পরের দিন দেখতে আসা সেই ছেলেকে বিয়ে করে চলে যায় বাইরের দেশে, যেখানে আলিফ নামের কেউ ছিলনা।

একমাত্র বাবার কথা রাখতে নিজেকে বলি দিল সুমা। আলিফ বার বার তার ফোনে ট্রাই করে বাট সেটা বন্ধ থাকে আজীন। কাঁদতে কাঁদতে ফোন ভেঙ্গেছিলো , এর পেছনে কি হবে তা না ভেবেই কাজটি করে, রাগ মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। একটা ছেলের পাশাপাশি নিজের জীবনের মায়া করলোনা। আসলে কোন বাবাই তার সন্তানের খারাপ চায়না, কিন্তু ভুল বুঝাবুঝিতেই ঘটে যত কান্ড। নতুন একটা ছেলের সাথে তার পরিচয় তার সাথেই বাঁকি জীবন কাটাবে এই চিন্তা নিমিষেই করে নেয় আর এও পণ করে কখনো বাবার সাথে যোগাযোগ করবেনা।

কথা মতো তাই করে বহুদিন হয় বাবা ফোন করে জামাই কথা বলে , এখনতো নাতনী হয়েছে সে কথা বলে কিন্তুু সুমা তার কথাই অটল।স্বামী ব্যাসার কাজে ব্যস্ত থাকায় তার সময় হয়না দেশে আসার এটা সুমার পক্ষে বেশ ভালোই হয়, এরই মাঝে সে আলিয় কে বিন্দু মাত্র ভুলতে পারেনা। কি করতে পারে সে আলিফের জন্য, মাঝে মাঝে ভাবে যদি মরে যেতাম তবে কি আলিয় আমায় ছাড়া বাঁচতোনা? এই একটা কথাই তাকে শক্ত ভাবে বাঁচতে সাহায্য করে।

সুমার খবর নিতে গেলে তার স্বমীর থেকে সব জানতে হয় বাবা -মাদের।সন্তানটি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে , সে সব বলে তাদের। আর এদিকে আলিফ তার জন্য যা করছিলো তা হলো,বহুদিন অপেক্ষার পর যখন কোথার সুমার কোন খবর পায়না এমনকি সুমার বাবা-মা পর্যন্তু তার খবর জানতে দেয়না। তাদের ধারনা সুমা তাদের সাথে কথা বলেনা তার জন্য আলিফ দায়ী। দিনে দিনে বয়স বাড়ছে আলিফের পরিবার মেয়ে দেখতে শুরু করেছে।

আজ নতুন একটা মেয়েকে দেখতে এসেছে তাকে। অপেক্ষার পালা শেষ করে আলিফের সামনে দেখতে আসা মেয়ে বসা, মেয়ের বাবা বলে এই আমার মেয়ে সামনে বসা, আপনাদের যা কিছু দেখার বা বলার বলতে পারেন। আলিফ কিছু বলেনা তার বাবা বলে , মেয়েতো মাশ আল্লাহ! আমার তো ঐ একটা ই চাওয়া, ছেলের বউ নয় আমার মেয়ে হয়ে থাকতে হবে। মেয়ে মাশ আল্লাহ সুন্দরী ই ছিলো। তিনি আরো বলেন ,বাবা আলিফ তোমার কিছু বলার থাকলে বলতে পার।

আরিফ বলে, আমি আর কি বলব বাবা, আমি চাই আমাকে যেন বিক্রি করে না দাও। সবাই হাসছিলো কথা শুনে,অনুমতি নিয়ে তারা আলাদা গিয়ে কথা বলতে থাকে আর নিজেই বিয়ে করতে অপারগ বলে জানিয়ে দেয় আর বলে তার একটা গার্লফ্রেন্ড আছে। মেয়েকে রাজী করায় একথা যেন পাঁচকান না হয়। এভাবে অনেক মেয়েকে ফিরিয়ে দিয়েছে আলিফ কিন্তু আজ কোন মেয়েই তাকে বিয়ে করতে রাজি নয়।

এ কথা গুলো কাকে বলবে সে? এতোক্ষনে তারা নিজেরা কাউকে কথাগুলো বলতেই পারেনি, জমে থাকা কথাগুলো কেউ কাউকে না বলতেই নয়ন এসে মেয়ের হাতের বলটি সুমাকে দিয়ে দু হাতে দুজনকে ধরে হাটতে হাটতে চলে যায়। সুমা একবারের জন্য পেছনে ফিরে তাকায়নি কারন পেছনে তাকালে তার নিজেকে অপরাধী মনে হবে আর আলিফ ভাবে যদি একবার ফিরে তাকাতো তার সেই প্রিয়তমা যত দুঃখ ই থাকনা কেন সব সইতে পারতো। তাদের না বলা কথা না বলাই থেকে গেল।

– এম রাসেল আহমেদ



ফেইসবুকে আমরা