এই মাত্র পাওয়া :

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯

শিরোনাম

  •          

কুমড়ো বড়ি তৈরি করে সিরাজগঞ্জে দুই শতাধিক পরিবারের ভাগ্যবদল!

বিভাগ : এক্সক্লুসিভ প্রকাশের সময় :25 November, 2019 7:03 : PM

এম এ মালেক, সিরাজগঞ্জ:

কুমড়ো বড়ি বাঙালির একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিভিন্ন তরকারির সঙ্গে রান্না করে খাওয়ার প্রচলন বহু আগের। ভোজন রসিকদের খাবারে বাড়তি স্বাদ এনে দেয় কুমড়ো বড়ি। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ গ্রামে প্রায় ২০ বছর যাবৎ বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করা হচ্ছে কুমড়ো বড়ি। প্রায় দুই শতাধিক পরিবার কুমড়ো বড়ি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। তবে আর্থিক সংকটের কারণে চাহিদামতো তৈরি করতে পারছে না তারা। সোমবার (২৫ নভেম্বর) সরেজমিন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ গ্রামে দেখা যায়, গ্রামের গৃহবধূরা কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কেউ ডালের গুঁড়ো পানি দিয়ে মিশিয়ে ফেলছে। আবার কেউ পলিথিনে কুমড়ো বড়ি তৈরি করছে। কেউবা বড়িগুলো টিনের উপর রেখে রোদে শুকিয়ে নিচ্ছেন। আবার কেউ তা ওজন করে বস্তায় ভরছেন। তবে এ বছর কুমড়ো বড়ির দাম নিয়ে হতাশ কারিগররা। শীতের আগমনী বার্তা কড়া নাড়ছে চলনবিল এলাকার এ উপজেলায়। তাই প্রতি বছরের মত শুরু হয়েছে। এদিকে কুমড়া বড়ি তৈরিতে নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও এ কাজ করে থাকে। হাট বাজারে কুমড়ো বড়ি বর্তমানে খুচরা ৭০-৮০ টাকা কেজি বিক্রয় হচ্ছে। তবে কারিগররা আশা করছেন আর কয়েকদিন পর আরো দাম বাড়বে।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলার কুমড়া বড়ির কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, অত্যান্ত সুস্বাদু হওয়ায় এ অঞ্চলের কুমড়া বড়ি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশে বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়। বিশেষ করে ঢাকায় চাহিদা রয়েছে বেশি। তারা আরো জানায়, এটি সারা বছর তৈরি করা সম্ভব কিন্তু এটা শীতকালে বেশী তৈরি হয়। কারন এটা শীতের সময় রান্না করে খেতে বেশি মজা লাগে।

জানা যায়, গ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষের অনেকের ভাগ্য উন্নয়নে শ্রম দিয়ে অনেক বছর ধরে এ কুমড়া বড়ি তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছে। কুমড়া বড়ির কারিগর উপজেলার নওগাঁ গ্রামের মথুরা পাড়ের শুশান্ত বৈরাগী জানান, আগে কুমড়া বড়ি ব্যবসায়ী পরিবারগুলো প্রথম অবস্থায় তেমন স্বচ্ছল ছিল না। এখন তারা অনেকটাই স্বচ্ছল কুমড়া বড়ি ব্যবসা করে।

তাছাড়া বড়ি তৈরির জন্য আগে তারা সনাতন পদ্ধতিতে সন্ধ্যায় ডাল ভিজিয়ে রাখতেন এবং পরের দিন তারা কুমড়ো বড়ি তৈরির জন্য ডাল, রং,তেল,টিন ও শীলপাট বেটে বড়ি তৈরি করতেন। কিন্তু বর্তমানে তাদের কষ্ট করতে হয় না। কারণ মেশিনের মাধ্যমে কুমড়া বড়ি তৈরির ডাল ফিনিশিং করা যায়। নওগাঁ গ্রামের গৌর ভৌমিক জানান, কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে তাদের প্রচুর পরিশ্রম করতে হতো। কিন্তু এখন অতোটা পরিশ্রম করতে হয় না কারন এখন মেশিনের মাধ্যমে ডাল ফিনিশ করা হয়। এ ছাড়া বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় তথ্য প্রযুক্তির ছোয়ায় অটো মেশিনের দ্বারা ডাল ও চাল ভাঙ্গানো হয়। তাই পরিশ্রম এখন অনেক কম।



ফেইসবুকে আমরা