এই মাত্র পাওয়া :

ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০

রেলের পাবলিক টয়লেট নিলামে বিক্রি করে অবৈধ ক্ষমতার দাপট দেখালেন সৈয়দপুরের পৌরমেয়র, বাড়লো জনদূর্ভোগ

বিভাগ : দেশের খবর প্রকাশের সময় :২১ নভেম্বর, ২০২০ ৫:০৭ : অপরাহ্ণ

মোতালেব হোসেন :

রেল অধ্যুষিত শহর সৈয়দপুর। ১৯/০৮/১৯৮৪ স্বারক নং-শাখা-১এম-৩/৮৪/২২৪(৮০৬) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাতেশ সরকার স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় র্সরকার বিভাগ শাখা-১ এর আদেশ বলে সৈয়দপুর পৌরসভাকে ২৫.৫ একর জমি রেল কর্তৃপক্ষ ব্যবহারের অনুমতি দেয়, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পৌরসভা বনাম জেলা প্রশাসক ও রেলের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মন্ত্রণালয় স্বাক্ষরিত চুক্তির ১(ক) নং শর্ত জমির মালিকানা বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের থাকিবে। পৌরসভা রেলের জমিতে কোন প্রকার স্থায়ী অবকাঠামোর নকশা বা নির্মান কোন কিছুই করিতে পারিবে না। কিন্তু সৈয়দপুরের পৌরমেয়র গডফাদার আমজাদ হোসেন সরকার দীর্ঘ পঁচিশ বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে রেলের পাঁচ হাজার কোটি টাকার ভূসম্পত্তির উপর অবৈধভাবে স্থায়ী বহুতল ভবন শপিং মল ও মার্কেট নির্মিত হয়েছে। বর্তমানেও নয়টি বহুতল ভবনের কাচ চলমান। চুক্তি ও রেলের আইন অচল।
ফলে শহরটি দিনে দিনে ঘিঞ্জি যানজটের শহরে পরিনত হয়েছে। এভাবে শহরের প্রায় অধিকাংশ রেলের জমি, বাসা, কোয়ার্টার ভেঙ্গে অবৈধ বহুতল ভবন নির্মান করেছেন পৌরমেয়রের আর্শিবাদপুষ্ট ভূমিদস্যুরা। জমি শেষ হওয়ায় মেয়রের নজর এবার বৃটিশ আমলে নির্মিত জহুরুল হক রোডের পাবলিক টয়লেটের উপর। উক্ত টয়লেটটি অবৈধভাবে দখলে নেওয়ার উদ্দ্যেশে তিনি সংস্কার না করে গত ১৭/১১/২০২০ তারিখে দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করে দেন এবং বিক্রয়ের অনুমতি দেন ডিসি অফিসের স্থানীয় সরকার শাখা। এব্যাপারে শহরজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে স্থানীয় উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতারা ডিসি অফিসে গিয়ে স্থানীয় র্সরকার শাখার কর্মকর্তা উপ পরিচালক আব্দুল মোতালেব র্সরকারের কাছে বিষয়টি অবহিত করে বলেন যে উক্ত রোডটি ব্যবসায়িক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় জনগন এবং সেখানে কর্মরত সবারই পাবলিক টয়লেটটি জরুরী প্রয়োজন অথচ তিনি সেটি সংস্কার না করে অসৎ উদ্দেশ্যে বিক্রির চেষ্টায় থাকার বিষয়টি অবহিত করেন। এবং ইতিপূর্বে উক্ত মেয়র রেলের ব্যকবোন ড্রেন দখল করে মার্কেট নির্মানের চেষ্টা করেছিলেন। রেলের জমিতে পৌরসভার অধিকার এবং রেলকে অবহিত না করে পৌরসভা একাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে উক্ত উপপরিচালক নিজে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বলেন আপনারা রেলের বড় বড় অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করেন তারাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।
এব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী, সৈয়দপুর পৌরসভার মোবাইল ০১৭১৫৫৭২০৯৫ এ জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা এটি নিলামে বিক্রি করার জন্য দরপত্র আহব্বান করেছি, রেলের সাথে পৌরসভার চুক্তি মোতাবেক রেলের জমিতে অবস্থিত স্থাপনা পৌরসভা বিক্রি করতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নাই। ইতিপূর্বে পৌরমেয়র উক্ত পাবলিক টয়লেটটির পিছনের শতবর্ষী একটি মূল্যবান বৃক্ষ প্রকাশ্য দিবালোকে কেটে বিক্রি করে উক্ত খালি জমিটি এক ব্যবসায়ী নিকট ৫০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেন। তৎকালীন আইডাব্লু তৌহিদুল ইসলাম কয়েকজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে গাছ বিক্রির লিখিত এজাহার সৈয়দপুর থানায় দায়ের করেছিলেন।
বর্তমান রেলের আইডাব্লু নারায়ন প্রসাদ সরকার এর মোবাইল ০১৭৬৫৭৪২৮০৫ এ যোগযোগ করলে তিনি জানান আমাদের জমিতে অবস্থিত বৃটিশ সময়ের নির্মিত পাবলিক টয়লেট বিক্রির অভিযোগ পেয়েছি, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে মোবাইলে ব্যাখ্যা চেয়েছি এবং আগামী ২২ তারিখে লিখিত পত্রের মাধ্যমে পৌরসভাকে জানানো হবে। উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতারা জানান দূর্নীতিবাজ, গডফাদার এই মেয়রের কোন দূর্নীতি বা অসৎ উদ্দ্যেশ্য আমরা সফল হতে দেব না এবং তারা ১৮ তারিখ সন্ধ্যায় পাবলিক টয়লেটটি পরিদর্শন করে জনগনকে আশ্বস্ব করেন যে এটি ভেঙ্গে বিক্রি করতে দেওয়া হবেনা।

Print Friendly and PDF

ফেইসবুকে আমরা