এই মাত্র পাওয়া :

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯

শিরোনাম

  •          

আত্মীয়ের কল্যাণে ৫২ বছর বয়সেও চাকরি; দুর্নীতি করে ১২শ' জনকে নিয়োগ দেয় বাচ্চু নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ

অনিয়মই যেন নিয়ম বেসিক ব্যাংকে

বিভাগ : অর্থনীতি প্রকাশের সময় :29 November, 2019 9:46 : AM

নিজস্ব প্রতিবেদক

বয়স ৫২ তাতে কি। নিজের আত্মীয় একজন ব্যাংকের পরিচালক হয়েছেন কাজেই চাকরি করতে হবে সেই ব্যাংকে। অথবা কেউ একজন মধ্যবয়সে সব ছেড়ে নিজের আত্মীয়ের কল্যানে বনে গেছেন ব্যাংকের চাকুরে। দর্শক বলছি বেসিক ব্যাংকের নিয়োগ নিয়ে সীমাহীন দুর্নীতির নতুন রিপোর্টের কথা। দৈনিক বায়ান্নের হাতে এসেছে কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেলের বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের প্রায় ১ হাজার পৃষ্ঠার নিরীক্ষা প্রতিবেদন। যাতে বলা হয়েছে শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর নেতৃত্বাধীন পরিচালনা অনিয়ম দুর্নীতি করে নিয়োগ দিয়েছেন ১ হাজার ১৭৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে।

দেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে যে কটি ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত তার অন্যতম বেসিক ব্যাংক। অথচ ব্যাংকটির চার হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির মামলায় চার্জাশিট হয়নি ৫০ মাসেও।

এ নিয়ে যখন নানা মহলে সমালোচনার ঝড় তখনই সামনে এলো প্রায় ধামাচাপা পড়া ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর আরেকটি দুর্নীতির ফিরিস্তি।

কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের এক হাজার পৃষ্ঠার নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর সময়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এক হাজার ১৭৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। যাদের ৮০১ জনই কর্মকর্তা পর্যায়ের। আর বাকি ৩৭২জন অফিস সহকারী, গার্ড, গাড়িচালক। এসব নিয়োগে আশ্রয় নেয়া হয়েছে অনিয়ম দুর্নীতির।

প্রতিবেদনে বলা হয় সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামের সুপারিশে ২৮ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে আবেদনের আগেই। ১৩ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে চাকরি বিধি অনুসরণ না করে। আর ২৯ জন জুনিয়র অফিসার ও ৩৭২ জন অফিস সহকারীর নিয়োগের ক্ষেত্রেও তোয়াক্কা করা হয়নি কোনো নিয়মনীতি।

এই যেমন কোনো প্রকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ নিয়োগ পান তানিয়া সুলতানা নামে একজন। অথচ তিনি জীবন বৃত্তান্ত জমা দেন চৌঠা এপ্রিল।

আর সহাকরী কর্মকর্তা পদে নাজমা খানমের নিয়োগ রীতিমত বিস্ময় জাগানিয়া। হাজারো মেধাবীকে বঞ্চিত করে এইচএসসি ও স্নাতকে তৃতীয় শ্রেণি নিয়েও মাঝবয়সে এসে চাকরি পান লোভনীয় বেতনে। আর ৫২ বছরের সাজেদুল হক জীবনে ব্যাংক কিংবা কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজ না করেও চাকরি পান একাধিক তৃতীয় শ্রেণি থাকা স্বত্ত্বেও।

প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থমন্ত্রণালয়ে জমা পড়লেও এ ব্যাপারে নেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বললেন, এটি অবশ্যই দুর্নীতি। এ ব্যাপারে দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

দুদকের আইনজীবী বলছেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসলে নিশ্চয় ব্যবস্থা নেবে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর বললেন,  বেসিক ব্যাংকের কোনো কিছু আসলেই দুদক কেন যেন থমকে যায়। এ ঘটনার তদন্ত চান তিনি।

আবদুল হাই বাচ্চুরে নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ঢালাওভাবে পদোন্নতি দিয়েছে একাধিক কর্মকর্তাকে-এমন অভিযোগ আনা হয়েছে সিএজির প্রতিবেদনে।



ফেইসবুকে আমরা