এই মাত্র পাওয়া :

ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

শিরোনাম

  •          

জয়পুরহাট: অর্ধযুগেও হয়নি উপজেলা আ: লীগের সম্মেলন

বিভাগ : রাজনীতি প্রকাশের সময় :1 December, 2019 7:15 : PM

এম রাসেল আহমেদ, জয়পুরহাট: 

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন দীর্ঘ অর্ধযুগ পেরিয়ে গেলেও অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে উপজেলা আওয়ামীলীগে দলের মধ্যে বিভক্ত, অসন্তোসসহ দলীয় কার্যক্রমে স্থবিরতা চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একনিষ্ট কর্মী ও সক্রিয় ভাবে যারা দলের হয়ে কাজ করেন এমন অনেক নেতা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, দীর্ঘ অর্ধযুগ পার হয়ে গেলেও দলের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন না হওয়ায় আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ভিতর দিন দিন দ্ধিধা দ্বন্দ বেড়েই চলছে। দলের মধ্যে দ্বিধা দ্বন্দের ফলে দলের তৃলমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনের দিক থেকে অনেকে দূরে যেতে শুরু করছেন। দ্রুততার সাথে উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত না করা হলে দলীয় নেতা কর্মীদের দলের পক্ষে বা সু-সংগঠিত করা কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়বে। এমনটাই মনে করছেন এখানকার দলের প্রবীণ ও ঝামেলা মুক্ত দলের নেতা ও কর্মীরা।

দলের অনেক তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আক্ষেপ ও দুঃখ প্রকাশ করে বললেন দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলেও আক্কেলপুরে আওয়ামীলীগের স্থায়ী কোন কার্যালয় নাই। পৌর আওয়ামীলীগের একটি কার্যালয় রেলগেট সংলগ্ন স্থানে থাকলেও সেটা সব সময় তালাবদ্ধ থাকে।

দলীয় কার্যালয় না থাকায় দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচী সমূহে কোন জাতীয় পতাকা বা দলীয় পাতাকা উত্তোলন করা হয়না। সরকারের পক্ষে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কিছু কিছু কার্যক্রমে কোন কোন নেতা অংশ গ্রহন করেন। তাও কখনো কখনো স্বতঃস্ফুর্ত নয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন বিগত ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোকছেদ আলী মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোকছেদ আলী মন্ডল জানান, কেন্দ্রীয় ভাবে সিদ্ধান্ত না থাকায় উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন বিলম্বিত হচ্ছে।

গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হিসেবে ভোট করলেও নিজ দলের কতিপয় নেতা কর্মী আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সাথে হয়ে বিরোধী দলের লোকজনের সহায়তায় উপজেলা পরিষদের ভোটে জয় লাভ করেন।

তিনি আরো বলেন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী গ্রুপ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়লাভ করায় দলের অনেকে সে-সুবাদে বিদ্রোহী গ্রুপে যারা ছিলেন তারা নানা ভাবে কৌশলে জড়িয়ে পরায় উপজেলা আওয়ামীলীগ দু’গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েন এবং দিন দিন দলীয় কার্যক্রম কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ে।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর বলেন, বিগত দিনে জয়পুরহাট-২ আসনে সব সময় বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করতেন। বিগত ৯ম সংসদ নির্বাচনের পূর্ব থেকে বিএনপি এ আসনে দু’গ্রুপে আবার কখনো ৩ গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েন।

এ বিভক্তকে কাজে লাগিয়ে গত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ এ আসনে সাফল্য জনক ভাবে জয়লাভ করেন। বিএনপির দ্বিধা দ্বন্দের সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমি নিরলস ভাবে সঙ্গী সাথীদের নিয়ে দিনরাত এক করে কাজ করে দলকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছিলাম এবং সে সময় থেকে দলের নেতা কর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ফিরে আসে।

গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এখানে আওয়ামীলীগও দু’গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। সে কারণে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সভাপতি নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট করলেও আনারস প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম আকন্দ ভোট করেন এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে জয়লাভ করেন।

আগামীতে এ আসনে আওয়ামীলীগকে জয়লাভ করাতে হলে দলের সকল নেতা কর্মীদের একত্রিত হয়ে দলের জন্য এক যোগে কাজ করলে ঝিমিয়ে পড়া দলকে আবারো সুংসগঠিত করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সকলে আন্তরিকতার সাথে একত্রিত হয়ে আওয়ামীলীগের হয়ে কাজ করলে এ আসনে আগামীতে আওয়ামীলীগ আবারো জয় লাভ করতে সক্ষম হবে।



ফেইসবুকে আমরা