এই মাত্র পাওয়া :

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯

শিরোনাম

  •          

সিংড়ায় একই দিনে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি অনুমোদন: বঞ্চিত ও ত্যাগী নেতাদের ক্ষোভ

বিভাগ : রাজনীতি প্রকাশের সময় :2 December, 2019 6:06 : PM

ফরহাদুজ্জামান, নাটোর:

একই দিনে নাটোরের সিংড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে জেলা বিএনপি। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক ও সদস্য সচিব রহিম নেওয়াজ সাক্ষরিত এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে গত ২৪ নভেম্বর একই দিনে সিংড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। তবে দলের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় পরবর্তীতে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটিকে ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট এবং পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটিকে ৪৫ সদস্যের স্থলে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট করা হয়। কিন্তু এই কমিটিতে  দলের অনেক ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা কর্মিদের স্থান না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত বিএনপির নেতা কর্মিরা।

দলীয় সুত্র জানায়, গত ২৪ নভেম্বর এড. মজিবর রহমান মন্টুকে আহ্বায়ক ও দাউদার মাহমুদকে সদস্য সচিব করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি এবং এড. আলী আজগর খানকে আহ্বায়ক ও তায়জুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ৪৫ সদস্য বিশিষ্ট  একটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু দলীয় নেতা কর্মিদের অসন্তোষের মুখে একই দিনে  পুনরায় ৬৭ বিশিষ্ট উপজেলা কমিটি ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট পৌর আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় জেলা বিএনপি। জেরা বিএনপির অনুমোদন দেয়া এই কমিটিতে  জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের স্বাক্ষর রয়েছে, কিন্তু কোন যুগ্ম আহ্বায়কের স্বাক্ষর নেই। জেলা নেতাদের এমন কর্মকান্ডে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা গেছে।

অপর দিকে নব গঠিত উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার এসেছে। এছাড়াও বিভিন্ন অসঙ্গতি দেখা গেছে।

উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রকাশনা সম্পাদক আনিসুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, গত জাতীয় নির্বাচনে প্রচারণায় গিয়ে সিংড়ায় সর্বপ্রথম আ’লীগের হামলার শিকার হয়েছিলাম আর এখন ৬৭ জনের মধ্যে আমার নাম খুঁজে পেলাম না।

সোহেল রানা নামের একজন লিখেছেন, চলনবিলের কয়েক কেজি মাছ, তো আপনার পদ-পদবী পাশ। আমাদের নেতাদের ডিমান্ড, এতটুকুই ব্যাস।

বিক্ষুদ্ধ দলীয় নেতা কর্মিরা জানান,  ত্যাগীদের নাম না থাকায়, একজনকে উপজেলা ও পৌর উভয় কমিটিতে রাখায় এবং সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নাম পরে রাখায় ক্ষোভ রয়েছে দেলের নেতা কর্মিদের মধ্যে কে।ষাভের জন্ম দিয়েছে।  ইতিমধ্যেই কয়েকজন সিনিয়র নেতা পদত্যােেগর সিদ্ধান্ত নিলে জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দের অনুরোধে করেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আহ্বায়ক কমিটির দুইজন সদস্য বলেন, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, পরে নেতাদের অনুরোধে করতে পারছি না, ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, কমিটিতে ত্যাগী অনেক নেতাকে রাখা হয়নি এবং সিনিয়র নেতাদের উপেক্ষা করে জুনিয়রদের উপরে রাখা হয়েছে। যা বর্তমান সংকট মূহুর্তে জেলা নেতাদের কাছে কাম্য নয়।

গত ১৭ নভেম্বর সিংড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত কর্মী সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমটিরি অন্যতম সদস্য ফরহাদ আলী দেওয়ান শাহীন বলেন, সিংড়ায় বিএনপির কমিটিতে পদ পেতে চলনবিলের মাছই তো শেষ, আর টাকার খবর তো বলাই যাবেনা। আপনারা যারা সিংড়ায় রাজনীতি করেন তারা মনে মনে শপথ নেন আপনারা কারও কাছে মাছ পাঠাবেন না, আপনারা কারও কাছে টাকা পাঠাবেন না। যার যোগ্যতা আছে সে পদ পাবে।

এ বিষয়ে নব গঠিত কমিটির উপজেলা বএিনপির আহাবায়ক এ্্যাড. মজিবর রহমান মন্টু বলেন. দলের মধ্যে কিছু ত্যাগী নেতা কর্মির নাম বাদ পড়েছে। এ নিয়ে দলের মদ্যে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সংগে কথা বলে কমিটিতে আরো সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানাবো।



ফেইসবুকে আমরা