মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কায় গত কয়েক দিন ধরে বাড়ছে তেলের দাম। বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ ডলার ২১ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও এক ডলারের বেশি বেড়ে ৯৯ ডলারে পৌঁছায়।
এর আগের দিন মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১০ ডলারে পৌঁছেছিল। গত সপ্তাহেও ব্রেন্টের দাম এ সীমা ছাড়িয়েছিল। পরে তা কমে ১০৬ থেকে ১০৭ ডলারের মধ্যে নেমে আসে। গত ১৯ মে ব্রেন্টের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ১১১ দশমিক ২৮ ডলার। অয়েলপ্রাইসডটকমের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৮১ ডলারে দাঁড়ায়। অন্য একটি বাজার প্রতিবেদনে একই সময়ে ব্রেন্টের দাম ১০৯ দশমিক ৬৮ ডলার এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৯৮ দশমিক ৫৫ ডলার উল্লেখ করা হয়। লেনদেনের সময়ভেদে দামের এ পার্থক্য দেখা গেছে।
তেলের বাজারে অস্থিরতার অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা। জ্বালানি বাজারবিষয়ক তথ্যপ্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১৮টি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। এদিকে, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এসব হামলা অব্যাহত থাকলে এবং তেল পরিবহনে বিঘ্ন বাড়লে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স