পবিত্র মাহে রমজানের শুরুতে কিছুটা দাম বৃদ্ধি পেলেও চার দিনের মাথায় কুষ্টিয়া শহরে সকল বাজারে কমতে শুরু করেছে সকল সবজি'র দাম। বর্তমানে বাজারে সব থেকে দামি সবজি সজিনা ডাটা প্রকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। মোটা পোক্ত গুলো দেড়শ টাকা, এছাড়া ২৫০,৩০০, টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ডাটা। এছাড়া বেগুন পটল উস্তে ঢেঁড়স এর দামও কমতে শুরু করেছে। রোজার আগে দিন বেগুন ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ৪৫-৫০ টাকা। পটল, উস্তে, ঢেঁড়স ৭০-৮০ টাকা। রমজানের শুরু বেড়ে যাওয়া লেবু, শষার দামও সহনীয়। লেবু একহালি সর্বোচ্চ ৫০ টাকা, শষা দেশী ৫০, হাইব্রিড ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া আঙুর, আপেল, কমলা, মাল্টা, তরমুজ ও কলাসহ প্রায় সব ফলের দামই বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। এসব পণ্য কিনতে গিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ বল হারাচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবার রমজানেও অসাধু ব্যবসায়ীরা বাড়তি মুনাফা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। সরবরাহ ঠিক থাকলেও দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) কুষ্টিয়া পৌর কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি ঠেকাতে বাজারে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ভোক্তারা।
বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় আমদানি কম। বাজারে যেসব জিনিসপত্রের আমদানি কম ও চাহিদা বেশি, সেসব জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। রোজায় লেবু, শসা, বেগুন, পটল, উস্তে, সজনে ডাটা ও ফলের দাম বেড়েছে। রোজায় বাজারে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। চাহিদা অনেক বেশি হওয়ার কারণে এসব জিনিসের দাম কিছুটা চড়া। পাইকারি দাম বেড়ে গেলে খুচরা দাম বেড়ে যায়। দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খুচরা ব্যবসায়ীদের হাত নেই।
কুষ্টিয়া পৌর কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সজনে ডাঁটা সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা কেজি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি কেজি উস্তে ৮০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, আলু ১৫ টাকা, বেগুন ও শসা বিক্রি করা হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। এক হালি লেবু বিক্রি করা হচ্ছে ৪০ টাকায়।
প্রতি কেজি আঙুর ৩২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আপেল প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি, কমলা প্রকারভেদে ২৭০, ৩০০ ও ৩৫০ টাকা কেজি। মাল্টা ৩২০ টাকা কেজি, নাসপাতি ৩২০ টাকা কেজি, তরমুজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগের ৪০ টাকা কেজির বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। একই সময় শসা ও লেবুর দাম বেড়েছে। ৩০ টাকা কেজির হাইব্রিড শশা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, ৪০ টাকা কেজির দেশি শশা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। রোজায় হঠাৎ দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছে। ব্রিক্রেতারা বলছেন কয়েকদিনের মধ্যে আরো কমবে দ্রব্যমূল্যলের দাম।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক মাসুম আলী বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করি। কোথাও কেউ যদি সিন্ডিকেট বা অতিমুনাফা করতে যায়। তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাজারে সরবারাহ ও চাহিদার ওপরে দাম বাড়ে এবং কমে। আমরা আমাদের বাজার মনিটরিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। দোষী অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বায়ান্ন/প্রতিনিধি/পিএইচ