ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার কাশিপুর বেদেপল্লীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, লুটপাটসহ কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে কালীগঞ্জ থানা ও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদক ব্যবসা ও ড্রাগন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত থেকে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের বস্তি থেকে স্থানীয়রা একজন ড্রাগন চোরকে আটক করে। সে সময় চোরের স্বীকারোক্তিতে মিজান নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে ধরে আনা হয়। কিন্তু তাঁদের থানা-পুলিশে না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধে কাশিপুর বেদেপল্লী ও স্থানীয় অধিবাসীরা দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
এই বিরোধের জের ধরেই সোমবার রাত ৯টার দিকে বেদেপল্লীর একাংশের সর্দার মনিরুল ইসলাম এবং স্থানীয় অধিবাসী ইমাম হোসেন লাভলু ও রেজা ডাকাত দলবল নিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাতের হামলার জের ধরেই আজ মঙ্গলবার সকালে গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়।
তাঁদের হামলায় শামীম হোসেন, ইমাম হোসেন লাভলু ও আজিজুলসহ সাতজন জখম হন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় ঝিনাইদহ পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। হামলায় আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি ও একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পরও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জুলফিকার আলী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানান তিনি।