কুমিল্লার চান্দিনায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মারামারি ও বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২২ মার্চ) মহিচাইল ইউনিয়নের জামিরাপাড়া গ্রামে মান্নান বেপারীর বসতভিটায় দুই দফায় এই ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়।
ঘটনার সূত্রপাত এবং হামলা -ভাংচুরের বিষয়ে মান্নান বেপারী জানান, আমার প্রায় ৩৬ বছর আগে ক্রয়কৃত জমি নিয়ে প্রতিপক্ষ দাবী করে প্রায় ২৭/২৮ বছর পর মামলা দায়ের করে । আমার সঠিক কাগজ-পত্র দেখে বিজ্ঞ আদালত মামলা আমার পক্ষে রায় দেয়। এর প্রেক্ষিতে ৬ মার্চ ২০২৫ইং তারিখ সকালে আমার প্রতিপক্ষ সহ এলাকার কিছু লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তায় পেয়ে আমার উপর আক্রমণ করে এবং সাথে থাকা ১১লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়ায় থানায় অভিযোগ করি। পরে ১১ মার্চ ২০২৫ ইং তারিখে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ থানায় আপোষ মিমাংসা করেন এবং বিরোধীত জমি কোর্টের রায় অনুযায়ী আমাকে ভোগ দখল করার ফয়সালা দেন।
থানার রায়ের শর্ত ছিল-
১, যেহেতু ১ম পক্ষ মান্নান বেপারী বিজ্ঞ আদালত হইতে নিজ মহিচাইল মৌজাস্থ দাগ নং-২৩২৬ খতিয়ান নং-৩২২৫ জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে একটি রায় আদালত হইতে পাইয়াছেন সেহেতু উক্ত জমি বর্তমানে তিনি ভোগ দখল করিবেন। তাহাতে বিবাদীরা কোন প্রকার বাধা প্রদান করিতে পারিবেন না।
২, বিবাদীরা উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন দাখিল করিয়াছেন। উক্ত আদালত হইতে যদি নতুন কোন আদদেশ প্রদান করা হয় তাহলে ১ম পক্ষ তাহা মানিয়া নিতে বাধ্য থাকিবেন।
৩, বিবাদীরা ১ম পক্ষকে কোন প্রকার চলাফেরায় বাধা বিঘ্ন সৃষ্টি করিবেন না বা কোন প্রকার ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হইবেন না।
৪, উপরোক্ত শর্তের বাহিরে কোন পক্ষ শর্ত ভঙ্গ করিলে অপর পক্ষ তাহার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন। তাহাতে অপর পক্ষের কোন প্রকার আপত্তি থাকাবে না, থাকিলেও তাহা সর্ব আদালতে অগ্রাহ্য বলিয়া গণ্য হইবে।
এই আদেশের প্রেক্ষিতে মান্নান বেপারী ২২ মার্চ সকালে মিস্ত্রী নিয়ে জমিতে ঘর তুলতে গেলে অপর পক্ষ বাধা প্রদান করেন এবং উভয়ের মাঝে মারামারি লেগে যায়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন বলে জানান। মারামারির জের ধরে বিকাল সাড়ে তিনটায় প্রতিপক্ষের ১০/১২ জন মান্নান বেপারীর বিল্ডিং ঘরে তার স্ত্রী, মেয়ে এবং নাতীনকে ঘরে অবরুদ্ধ করে জানালা ভাংচুর এবং আরো দুটি ছোট বড় টিনের ঘর ভাংচুর করে। খবর পেয়ে মান্নান বেপারী ৯৯৯ এ কল দিলে চান্দিনা থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

অপর পক্ষ রেদোয়ান জানান, আমরা আপীল করলে হাইকোর্ট ১৪৪ ধারা জারি করে। সে তা অমান্য করে ভোর বেলা ঘর নির্মাণ করতে গেলে আমরা বাধা দিলে আব্দুর রহমান (৪৫), নাছিমা বেগম (৫৫) এবং জোসনা বেগম (৩৫) কে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তারা এখন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘর ভাংচুরের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি আরো জানান, মান্নান বেপারী নিজের ঘর নিজেই ভেঙ্গে আমাদের দোষ দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাবেদ উল ইসলাম জানান, মারামারির ঘটনায় জখমী নাছিমা বেগমের মেয়ে আমেনা বাদী হয়ে মান্নান বেপারী সহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৪/৫ দিয়ে চান্দিনা থানায় মামলা করেছে। আমরা আসামী ধরার চেষ্টা করছি।
বায়ান্ন/প্রতিনিধি/পিএইচ