দেশের খবর

কুষ্টিয়া শহরে ১০ হাজার ইজিবাইকের ট্রেড লাইসেন্স মাত্র ৪৫০ টির

শহরে ইজিবাইক, রিকশা-ভ্যান চলাচল করতে কুষ্টিয়া পৌরসভা কর্তৃক ট্রেডলাইসেন্স বা নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। ট্রেড লাইসেন্স করতে একটি ইজিবাইক চালককে গুনতে হয় মোটা অংকের অর্থ। বিপুল এই অর্থের বিনিময়ে ট্রেড লাইসেন্স করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে ইজিবাইক রিকশা ভ্যান চালক। লাইসেন্স খরচ কমানোর দাবিতে  বিভিন্ন সময় কুষ্টিয়া শহরে সভা সমাবেশ হয়েছে ।

অপরদিকে নিবন্ধিত অনিবন্ধিত মিলে কুষ্টিয়া শহরে আনুমানিক ১০ হাজার ইজিবাই চলাচল করে প্রতিনিয়ত। এই বিশাল অংকের ইজিবাই শহরের বিভিন্ন রাস্তা দখল করে চলাচল করে, ফলে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ যানজট। যানজটের নগরীতে পরিনত হচ্ছে কুষ্টিয়া। শহরের মজমপুর গেট, থানা মোড়,  বাবর আলী রেলগেট, হাসপাতাল মোড়,কলেজ মোড়, পুরাতন কাটারখানা মোড়,বড় বাজার সহ শহরের একাধিক স্থানে দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। যানজটের কারণ হচ্ছে, অতিরিক্ত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে চলাচল করা।

কুষ্টিয়া পৌরসভার লাইসেন্স শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন  জানান, ইজি বাইকের নতুন লাইসেন্স করতে সর্বমোট ৬৭৫০ টাকা পৌর কর্তৃপক্ষ থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং লাইসেন্স নবায়ন করতে ৩৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান লাইসেন্স না নিয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার এরিয়ার মধ্যে ইজিবাইক রিকশা ভ্যান চলাচলের অনুমতি নেই। লাইসেন্স প্রাপ্তির তুলনায় কয়েকশো গুন বেশি ইজিবাইক চলাচল করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, কুষ্টিয়া পৌরসভার লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে পারছে না। ৫ আগস্ট এর পর মেয়র ও কাউন্সিলর অপসারনের পর একটু অসুবিধার মধ্যে পার করেছে কুষ্টিয়া পৌরসভা। এখন প্রশাসন মহোদয় নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করার ফলে কার্যক্রমে অনেকটা গতি এসেছে । আমরা দুই একদিনের মধ্যেই লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা আটকের অভিযান পরিচালনা করব।

ইজি বাইক চালক মুসা মিয়া জানান, আগে একটি ইজি বাইকে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা আয়হত। বর্তমানে ইজি বাইকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ৭০০ থেকে ৮০০ আয় করতে কষ্ট হয়ে যায়। এর থেকে ইজিবাইকের বৈদ্যুতিক চার্জ খরচ, বছর অন্তে ব্যাটারি পরিবর্তন সহ খুঁটিনাটি ব্যাপারে খরচ এখন আগের থেকে দুইগুণ বেশী। এরপর দ্রব্যমূলের এই ঊর্ধ্বগতির সময় সংসার খরচ করে বিপুল এই অর্থ দিয়ে লাইসেন্স করা কষ্টসাধ্য। তাই লাইসেন্স ফি কমিয়ে আমাদেরকে বৈধভাবে চলাচলের সুযোগ দিতে হবে।

সোহেল রানা নামে আরেকজন চালক জানান, রিকশা ভ্যানের লাইসেন্স ফি অতিরিক্ত বেশি হওয়ায় কেউ লাইসেন্স করতে পারছে না। আবার লাইসেন্স করতে গেলে নানা রকম হয়রানির শিকার হতে হয়। পৌরসভা কর্মকর্তা কর্মচারীদের আত্মীয়-স্বজন পরিচিতদের লাইসেন্স দেওয়া হয়। অথবা মোট অংকের ঘুষ দিলে মিলে লাইসেন্স। তিনি আরো জানান, যেসব অটোরিকশা লাইসেন্স করতে আগ্রহী নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে তাদের কাছে আবেদন নিয়ে লটারির মাধ্যমে নির্দিষ্ট  সংখ্যক অটোরিকশা বেছে নিয়ে লাইসেন্স প্রদান করতে হবে, এবং এদের ব্যতীত কাউকে শহরের চলাচল করার অনুমতি থাকবে না।

কুষ্টিয়া পৌরসভার  লাইসেন্স শাখার কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম লাবু জানান, কেউ লাইসেন্স করতে এসে হয়রানি হওয়ার সুযোগ নাই। যদি কেউ হয়রানি হয় অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক প্রশ্নে তিনি আরো জানান, গত অর্থবছর ২২০০ ইজিবাইক লাইসেন্স এর আওতায় ছিলো, চলতি অর্থবছর এখন পর্যন্ত ৪৫০ টি ইজিবাইক লাইসেন্স নবায়ন করেছে। তবে নতুন লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ আছে।

কুষ্টিয়া ইজিবাইক ভ্যান রিকশা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মোঃ আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রতিটি চালক লাইসেন্স করে সড়কে চলাচল করতে আগ্রহী। এক দিকে উচ্চমূল্যে লাইসেন্স নিতে হচ্ছে অন্যদিকে লাইসেন্স ব্যতীত কিছু অটো রিক্সা শহরে চলাচল করায় আয় কমে যাচ্ছে। ফলে চালকেরা নিরুৎসাহিত হচ্ছে লাইসেন্স করতে। পৌরসভা লাইসেন্স ফি ১০০০ টাকার মধ্যে নিয়ে আসলে শতভাগ অটো রিক্সা লাইসেন্সের আওতায় থাকবে বলে আশা করি।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নেতা মিরাজুল  ইসলাম জানান, কুষ্টিয়া শহরের প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার ইজিবাইক চলাচল করে। এই বিশাল ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কুষ্টিয়া পৌরসভার মধ্যে যানজট নিরসন  করা সম্ভব হবে না। অপরদিকে বিপুল পরিমাণ অটোরিকশাকে লাইসেন্স এর আওতায় না আনলে একদিকে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়বে অন্যদিকে পৌরসভা হারবে বিশাল  রাজস্ব।

বায়ান্ন/প্রতিনিধি/পিএইচ

 



সম্পর্কিত খবর