জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নয়জন শিক্ষক ও ২৮৯ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন:
* সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোস্তফা ফিরোজ
* সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক বশির আহমেদ
* পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাজউদ্দীন শিকদার
* ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবাল
* নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইস্রাফিল আহমেদ রঙ্গন
* বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার
* তৎকালীন প্রক্টর আলমগীর কবির
* সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজউল হাসান
* ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক হুসনিয়ারা
এছাড়া আন্দোলনে হামলার ঘটনায় আরও ১০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য একটি স্ট্রাকচার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তাধীন শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন পলাশ সাহা, শফি মোহাম্মদ তারেক, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মনির উদ্দিন শিকদার, মহিবুর রউফ শৈবাল, আনোয়ার খসরু পারভেজ, সাইফুর রহমান ও অধ্যাপক এ এ মামুন।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কৃত ২৮৯ শিক্ষার্থীর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে এদের মধ্যে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া শিক্ষার্থীদের সনদপত্র স্থগিত, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ফলাফল স্থগিত এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব শিক্ষার্থী নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের পেনশন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই কর্মকর্তা ও এক কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
বায়ান্ন/আরএস