দেশের খবর

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি পদে একক প্রার্থী, সম্পাদক হচ্ছেন কে

আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি যশোর জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ ৭ বছর পর এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ইতিমধ্যে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. ইসহককে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। সদস্যরা হলেন, আইনজীবী আনিসুর রহমান মুকুল, অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন, চিকিৎসক এসএম রবিউল আলম ও সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সজল। সম্মেলনকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মাঝে আনন্দ উৎসব বিরাজ করছে। সভাপতি পদে একক প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য তরিকুল ইসলামের সহধর্মিণী অধ্যাপক নার্গিস বেগম। সাধারণ সম্পাদক পদে ৪ নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। সম্মেলনে এক হাজার ৬১৬ জন কাউন্সিলর ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কঠিন সময়ে দলকে ধরে রাখার পুরস্কার হিসেবে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হতে যাচ্ছেন অধ্যাপক নার্গিস বেগম। তার প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে আর কেউ থাকছেন না। তবে তিনি স্বেচ্ছায় সভাপতি না হতে চাইলে সেক্ষেত্রে সভাপতি পদে একাধিক প্রার্থী লড়বেন। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে হবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ইতিমধ্যে ভোটে সাধারণ সম্পাদক হবার জন্য চার নেতা মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা বর্তমান সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, মিজানুর রহমান খান ও যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মারুফুল ইসলাম মারুফ। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাড, হাজী আনিসুর রহমান মুকুল, নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্ছু ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম।

সূত্রটি আরও জানায়, মেয়াদ উত্তীর্ণের ১০ বছর পর ২০১৮ সালের ২০ মে ভেঙে দেওয়া হয়েছিলো যশোর জেলা বিএনপির কমিটি। দলের নির্বাহী কমিটি ভেঙে ৫৩ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য প্রয়াত তরিকুল ইসলামের সহধর্মিণী অধ্যাপক নার্গিস বেগম। আর সদস্য সচিব করা হয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুকে। আহ্বায়ক কমিটিকে পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে বলা হয়। কিন্তু এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে সাত বছর। দীর্ঘদিন সম্মেলন ও কমিটি গঠন না হওয়ায় পদপ্রত্যাশী নেতারা হতাশ হয়ে পড়েন। বিগত সরকারের আমলে হামলা-মামলার ভয়ে দলীয় কর্মকান্ডে অনুপস্থিত থাকেন অনেকে। কিন্তু ৫ আগস্টের পর নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। অংশ নিতে থাকেন দলীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে।

জেলার শীর্ষনেতারা বলছেন, বিভিন্ন সময়ে ভোটের মাধ্যমে উপজেলা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করার কারণে আন্দোলন ও কমিটি গঠন ঝিমিয়ে পড়ে। পুলিশি বাধায় কমিটি গঠন করতে পারেনি অনেক উপজেলায়। আওয়ামী লীগের পতনের পর অসম্পন্ন উপজেলা কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে। একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন, বিগত আওয়ামী আমলে দলের নেতাদের সাথে অনেকে হামলা-মামলার ভয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। রাস্তাঘাটে দেখা হলে শুধু সালাম বিনিময় করতেন। পরিবার, ব্যবসা, চাকরি রক্ষার স্বার্থে নেতাদের সাথে ঠিকঠাক মত যোগাযোগ করতেন না অনেকে। সেই সময়ে দলের হাল ধরেন বিএনপির কেন্দ্র্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও তার মা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম। পুলিশি বাধা উপেক্ষা তারা পালন করেছেন দলীয় কর্মসূচি। এজন্য তাদের কাঁধে রয়েছে শতাধিক মামলা। একাধিকবার পুলিশের মারমুখী আচরণের শিকার হয়েছেন তারা।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাবেরুল হক সাবু জানান, আগামী ২২ ফ্রেরুয়ারি জেলা বিএনপির সম্মেলনের তারিখ নির্ধারন করা হয়েছে। দল চাইলে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হবো। বিগত দিনে অনেক হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। ফলে ভোটাররা অবশ্যই তাকে মূল্যায়ন করবেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান,  ৫ জনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা আগামি ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে মনোনয়নপত্র বিক্রি করবেন বলে আশা করছি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমকে সভাপতি হিসেবে দলের সবাই চাইছেন। বিগত সময়ে তিনি শত বাধা পেরিয়ে দলকে আকড়ে রেখেছিলেন। আর সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে তিনি ভোটযুদ্ধে মাঠে থাকবেন। ভোটাররা নির্বাচন করবেন কে হবেন সাধারণ সম্পাদক।

মিজানুর রহমান খান ও মারুফল ইসলামও দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। তারা দুজনেই বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারিভাবে হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। গায়েবি মামলায় নেতাকর্মীরা বাড়ি থাকতে পারেনি। এরমধ্যেও নেতাকর্মীদের আন্দোলনে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। নানা চাপের মধ্যেও আমরা দলকে শক্তিশালী করার কাজ চালিয়েছি।

এদিকে, তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, বিগত দিনে অধ্যাপক নার্গিস বেগম তাদের সন্তানের মত করে আগলে রেখেছেন। তিনি আমাদের অভিভাবক সভাপতি হিসেবে তারা তাকে চান। তবে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যোগ্য নেতাকে নির্বাচিত করা হোক। দলের খারাপ সময়ে যারা মাঠে ছিলেন। নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর নিয়েছেন তাকেই সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হোক।

বায়ান্ন/প্রতিনিধি/পিএইচ



সম্পর্কিত খবর