দেশের খবর

আমতলী পৌরসভায় নকশা অনুমোদনের তোয়াক্কা না করেই ভবন নির্মান

বরগুনার আমতলী পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নকশা অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে একের পর এক ভবনের নির্মাণকাজ করছেন প্রভাবশালীরা। অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ হচ্ছে ভবন । সরকারি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন স্থানীয়রা। পৌর এলাকায় গড়ে ওঠা অর্ধেকের বেশি এমন ভবন নির্মাণে বাড়ছে ঝুঁকি। চোখের সামনেই এমন ভবন নির্মাণ হলেও দেখার কেহ নাই। জানা যায়, আমতলী পৌরসভায় ৩৫ হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে ৭ হাজার ৪১টি হোল্ডিং রয়েছে। এরমধ্যে ৮ শত ৭৮টি রয়েছে পাকা ভবন রয়েছে পৌরসভার হিসাবে । বাস্তবে রয়েছে এর চেয়ে ৪ গুন বেশি পাকা ভবন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদন ছাড়া যত্রতত্র ভবন নির্মাণ একদিকে বাড়াচ্ছে ঝুঁকি, অন্যদিকে সৌন্দর্য হারাচ্ছে শহরের। এখনই এটি থামানো না গেলে চরম মূল্য দিতে হতে পারে পৌরবাসীকে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান, আমতলী পৌরসভার কিছু অসাধু ব্যাক্তি চা পান খরচ ও মোটা অংকের টাকা নিয়ে সরকারী জমিগুলোতে অবৈধ ভাবে পাকা স্থাপনা নির্মান করার সুয়োগ করে দিচ্ছেন। 

সরেজমিনে আমতলী পৌরসভা ঘুরে দেখা যায় বর্তমানে পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডে বরফ মিল সলগ্ন আশিষ চন্দ্র দাস, ৫ নং ওয়ার্ডে দেলোয়ার হোসেন, ৪ নং ওয়ার্ডের শশ্মানঘাট সলগ্ন রহমান মিয়া , পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের ফেরিঘাট সলগ্ন মামুন মৃধা ৪ নং ওযার্ডের কালাম মিয়া সরকারী পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ১ নং খতিয়ানে জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মান করতেছে। এ ছাড়াও আমতলী পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডেও বিভিন্ন স্থানে এ ভাবে ভবন নির্মাণ করা হলেও দেখার কেহ নাই। আমতলী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মজিবুল হায়দার বলেন, তদন্ত পূর্বক এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার হাউস ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ হানিফ জানান, নিয়ম না মেনে ভবন নির্মাণে বাড়ছে ঝুঁকি। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে পৌরসভার ভবন নির্মাণ আইন অমান্য করে অনেকেই জলাশয় ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। এটি এখনই থামানো দরকার। তা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হতে পারে। আমতলী পৌরসভার প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান জানান, আমতলী পৌরসভা থেকে বর্তমানে কোনো অনুমোদন ছাড়া নতুন ভবন নির্মাণ করতে দেয়া হচ্ছে না। এর আগে যারা বিধি না মেনে ভবন নির্মাণ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।



সম্পর্কিত খবর