খুলনা

কলেজছাত্রের ইজিবাইক চুরি: চোর শনাক্ত করে থানায় অভিযোগ দিলেও দুই মাসেও উদ্ধার হয়নি ইজিবাইক

অসুস্থ বাবা বাড়িতে শয্যাশায়ী। আর মা একটি ক্লিনিকে কাজ করতেন, তাও বন্ধ। বাধ্য হয়ে কলেজপড়ুয়া পলক মল্লিককে লেখাপড়ার পাশাপাশি কাজে নামতে হয়েছিল। পরিবারের সবাই দু-মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকতে এনজিওর ঋণে একটি ইজিবাইক কিনে নিজেই ভাড়ায় চালাত। এ থেকেই তার নিজের লেখাপড়ার খরচ জোগানসহ চলত চার সদস্যের সংসার। কিন্তু সেই সুখ তার বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে রোজগারের একমাত্র অবলম্বন ইজিবাইকটি হারিয়েছে কলেজছাত্র পলক মল্লিক। এখন আয়ের আর কোনো উৎস না থাকায় অনাহার-অর্ধাহার তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। এরপর আবার ইজিবাইক কেনার সেই ঋণের টাকার কিস্তি হয়ে গেছে গলার কাঁটা। ভুক্তভোগী পলক মল্লিক ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের এম ইউ কলেজপাড়ার জয়দেব মল্লিকের ছেলে ও সরকারি মাহতাবউদ্দিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।

পলক মল্লিক জানায়, বাবা-মায়ের সন্তানদের মধ্যে সে ছাড়া আরেকটি বোন আছে। বোনটির বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে সে ছাড়া এখন বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনার আর কেউ নেই। তেমনি নেই রোজগারের উৎস। যখন সে মাধ্যমিকে পড়ত, তখন বাবা-মা দুজনই পয়সা রোজগার করতেন। তখন সংসার হাসি-আনন্দে ভরা ছিল। কিন্তু তাদের রোজগার বন্ধ হওয়ার পর অভাব নামের যন্ত্রণাটির যাঁতাকলে সবাই পিষ্ট হতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি কাজে নামতে হয় তাকে। এজন্য জমানো কিছু টাকা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি ইজিবাইক কিনে নিজেই ভাড়ায় চালাতে শুরু করে। এতে কোনো রকমে চলছিল তাদের দিনকাল। কিন্তু সেটিও বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

পলক জানায়, গত ৪ জুলাই সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩-৪ জন যাত্রী নিয়ে ঝিনাইদহ শহরে যায়। এরপর যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে যাত্রী লিটন আলী তার ইজিবাইকটি দাঁড় করায়। এ সময় ইজিবাইকের অপর যাত্রী সবুজ শেখ নেমে যায়। কিছু সময় পর চালক পলককে সামনেই রাস্তার মোড় থেকে সবুজ শেখকে ডেকে আনতে বলে। পলক তার কথা মতো সবুজকে ডাকতে গিয়ে ফিরে এসে দেখে ঘটনাস্থলে তার ইজিবাইকটি নেই। প্রতারক চক্র তার ইজিবাইকটি নিয়ে গেছে। কোথাও খুঁজে না পেয়ে পরদিন ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি অভিযোগ দেয়। কিন্তু পুলিশ কিছুই করতে পারেনি।

পলক আরও জানায়, পরবর্তীতে গত ২৩ জুলাই জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ১১ জন চোর-ছিনতাইকারী আটক হওয়ার খবর পেয়ে ঝিনাইদহ থানায় যায়। সেখানে আটককৃতদের মধ্যে তার ইজিবাইক চুরির সঙ্গে জড়িত কুষ্টিয়া জেলার লিটন আলী ও সবুজ শেখকে শনাক্ত করতে পারে। এরপর ১৩ আগস্ট ও ২৯ আগস্ট ওই দুই চোরের নাম উল্লেখ করে পুনরায় সদর থানায় আরও একটি এজাহার জমা দেয়। কিন্তু পুলিশি তৎপরতা তেমন না থাকায় আজও তার ইজিবাইকটি উদ্ধার হয়নি।

পলকের মা রূপালী পাল জানান, ইজিবাইকটি হারিয়ে তাদের সংসারে চরম অভাব ও হতাশা বিরাজ করছে। এখন তাদের আয়ের আর অন্য কোনো উৎস না থাকায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান জানান, ইজিবাইক চুরির অভিযোগ পেয়েছেন। সে সময় পুলিশ অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদও চালিয়েছে। তবে কোনো সূত্র না পেলেও ইজিবাইকটি উদ্ধারে পুলিশ জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রধান সংশোধন ও পরিমার্জনসমূ

 


সম্পর্কিত খবর