চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য পরিচয়ে একটি ভবনে ঢুকে ডাকাতির চেষ্টাকালে ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে স্থানিয় লোকজনের সহায়তায় তাঁদের আটক করে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. ওয়াজেদ (৩৬), মো. হোসাইন (৪২), রুবেল হোসেন (২৫), মহি উদ্দিন (৪৫), আবদুস সবুর (৩৭), মো. ইয়াকুব (৩৫), মোজাহের আলম (৫৫), মো. রোমেল (৪১), ওসমান (২৪), আবদুল মান্নান (৩৫) ও শওকত আকবর (২৮)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, একটি মাইক্রোবাসে করে ১৩ জন লোক খুলশীর ৩ নম্বর রোডের একটি বহতল ভবনের সামনে আসে। এ সময় ভবনের নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে নিজেদের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য পরিচয় দেন।
এরপর ভবনে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীদের আটকে রেখে অষ্টম তলায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আনসারীর ফ্ল্যাটে ঢুকেন। ওই সময় বাসায় ছিলেন না গিয়াস উদ্দিন। বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে জিনিসপত্র তছনছ করেন তাঁরা।
এরইমধ্যে ডাকাত সন্দেহে ওই ভবনের অন্য বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। এরপর খুলশী থানার পুলিশ এসে ১১ জনকে আটক করে নিয়ে যায়। অভিযানের সময় দুজন পালিয়ে গেছেন। আসামিদের কাছ থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল, খেলনা পিস্তল ও ভ‚য়া পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আনসারীর ভাই জালাল উদ্দিন আনসারী খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি বলেন, ফ্ল্যাটে তাঁর ভাইয়ের পরিবারের কেউ ছিলেন না। তাঁরা বেড়াতে গিয়েছিলেন। এই সুযোগে গোয়েন্দা সংস্থার লোক পরিচয় দিয়ে একদল লোক দরজা ভেঙে তাঁর ভাইয়ের বাসায় ঢোকেন। তাঁরা বাসার বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করেন। পরে পুলিশ এসে ১১ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (উত্তর) ফয়সাল আহমেদ বলেন, ১১ জনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে।
বায়ান্ন/প্রতিনিধি/একে