জাতীয়

ছুটির আনন্দ সমুদ্রসৈকতে

শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি ও পর্যটন কার্নিভালকে ঘিরে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে সমুদ্রসৈকতে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো। হোটেল-মোটেলের বুকিং, রেস্তোরাঁ এবং পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বেড়েছে ব্যস্ততা। এছাড়া কার্নিভাল ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও বাড়তি চাঞ্চল্য। বুধবার (২১ অক্টোবর) কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছেন, কেউ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন। আবার অনেকে সৈকতের বালুকাবেলায় ঘুরে বেড়িয়ে উপভোগ করছেন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। ছুটিতে পর্যটকদের এই আগমন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আশার সঞ্চার করেছে।

 

এদিকে পর্যটকদের আগমনে আবাসিক হোটেল-মোটেলগুলোতে দেখা যাচ্ছে মিশ্র চিত্র। কোনো কোনো হোটেলে কয়েকদিনের জন্য শতভাগ কক্ষ বুকিং থাকলেও অন্য দিনগুলোতে বুকিং কমে যাওয়ার তথ্য জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। হোটেল ডি’মোরের পরিচালক জয়নুল আবেদিন জুয়েল বলেন, আমাদের মোট রুম ৫৭টি। ২১ ও ২২ অক্টোবর শতভাগ বুকিং থাকলেও ২৩ অক্টোবর ৫০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। তবে ২৪ অক্টোবর কোনো বুকিং নেই। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের জেনারেল ম্যানেজার এমজি মোর্শেদ খান বলেন, আমাদের মোট ৪৩টি রুম। আগামীকাল ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সব রুমের শতভাগ বুকিং রয়েছে।

 

পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। বিশেষ করে রাখাইন পল্লী মার্কেটসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। কুয়াকাটা রাখাইন পল্লী মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মনির পহলান বলেন, কুয়াকাটায় তিন হাজারের বেশি দোকানপাট রয়েছে। বর্তমানে সব ব্যবসায়ী ব্যস্ত সময় পার করছেন। পর্যটন কার্নিভাল ও ছুটিকে কেন্দ্র করে কেনাকাটা, খাবার এবং বিভিন্ন পর্যটনসেবার চাহিদা বাড়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা করছেন বলে মত তার। গাজীপুর থেকে পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় বেড়াতে এসেছেন পর্যটক লায়লা শিরিন। তিনি বলেন, কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করেছে। সমুদ্রের ঢেউ, বিশাল সৈকত আর মনোরম পরিবেশ পরিবারের সবাইকে আনন্দ দিয়েছে। দুর্গাপূজার ছুটিতে ঘুরতে এসে কার্নিভালের আমেজও উপভোগ করতে পারছি। তবে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ায় খাবারের মান, যাতায়াত ও নিরাপত্তার বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

 

খুলনা থেকে আসা পর্যটক সাব্বির হোসেন বলেন, ছুটির সময়টাকে আনন্দময় করতে কুয়াকাটায় এসেছি। এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে। সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি কার্নিভাল ঘিরে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা ভ্রমণকে আরও আনন্দদায়ক করেছে। পর্যটকদের জন্য ভালো সেবা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সাশ্রয়ী খরচ নিশ্চিত করা গেলে কুয়াকাটায় আরও বেশি মানুষ বেড়াতে আসবে। পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটার অন্যতম আকর্ষণ হলো একই সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ, বিস্তীর্ণ বালুকাবেলা এবং সমুদ্রের মনোরম দৃশ্য। উৎসবের ছুটির সঙ্গে কার্নিভালের আমেজ যুক্ত হওয়ায় ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

 

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, কুয়াকাটায় তিন শতাধিক আবাসিক হোটেল-মোটেল রয়েছে। এসব হোটেল-মোটেলে প্রায় ৪০ হাজার পর্যটকের ধারণক্ষমতা রয়েছে। বুধবার প্রায় লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটেছে। অনেক পর্যটক সারাদিন ভ্রমণ শেষে ফিরে যাচ্ছেন। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ নাজমুল আহসান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে কুয়াকাটা ভ্রমণ করতে পারেন, সেজন্য নিরাপত্তা ও নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, পর্যটকরা যাতে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে কুয়াকাটা ভ্রমণ করতে পারেন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্যটনকেন্দ্রের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যটকদের সেবার মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। পর্যটন কার্নিভালকে ঘিরে কুয়াকাটায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। পর্যটকদের আগমন, হোটেল-মোটেলের বুকিং এবং ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এই জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সৈকতের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পর্যটনসেবার মান উন্নয়ন অব্যাহত রাখাও গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা।

 



সম্পর্কিত খবর