রাজনীতি

পোশাক খাতে অস্থিরতার নেপথ্যে আ.লীগ-যুবলীগ: দাবি জামায়াতের

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে চলমান অস্থিরতা, কারখানা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার নেপথ্যে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগসহ স্বার্থান্বেষী মহল জড়িত বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, শিল্প ধ্বংসের এই অপতৎপরতা জাতীয় অর্থনীতিকে পঙ্গু করার গভীর ষড়যন্ত্র।

 

 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন। চলমান পোশাক শিল্প সংকট নিয়ে দলটির অবস্থান তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

 

 

লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে, আর শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে’— এটিই জামায়াতে ইসলামীর মূলনীতি। কিন্তু আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মিরপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

 

শত শত কারখানা বন্ধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কারণে লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান আজ হুমকির মুখে।

পোশাক খাতের অস্থিতিশীলতার জন্য পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের দায়ী করে তিনি বলেন, চলমান শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগসহ রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল উসকানি দিয়ে শিল্প খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

 

প্রকৃত অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে সাধারণ ও নিরীহ শ্রমিকদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানি, নির্যাতন, গণগ্রেপ্তার এবং নির্বিচারে গুলি চালানো বন্ধের দাবি জানান তিনি।

গাজীপুরে বিক্ষোভরত অবস্থায় শ্রমিক তৌফিক শেখের (২১) নিহতের ঘটনায় গভীর শোক ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

 

শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাসাভাড়া ও চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার কারণে শ্রমিকদের জীবনযাপন চরম কঠিন হয়ে পড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় তাদের আয় বাড়েনি। সদ্য গঠিত মজুরি বোর্ডে প্রকৃত নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সদস্য রাখা হয়নি অভিযোগ করে তিনি দ্রুত যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণের আহ্বান জানান।

 



সম্পর্কিত খবর