ঈদ মানে আনন্দ ঈদ মানে খুশি। আর এই আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে শহরে সব বিনোদন কেন্দ্রে ছুটছে ভ্রমণপিসাসুরা। সবুজ পাহাড়, ঝর্ণা ও প্রকৃতিক ঘেরা সৌন্দর্য রুপের রানী হিসাবে খ্যাত
পার্বত্য জেলা বান্দরবানে দর্শনার্থীরা ভীড় করছেন। এবারও টানা ঈদের ছুটিতে হাজারো পর্যটক ভীড় জমাচ্ছে পর্যটনকেন্দ্র গুলোতে। পাহাড়ঘেরা সবুজ প্রকৃতির ও আর পাহাড়ের মেঘ মনভোলানো দৃশ্যপট দেখতে বান্দরবানের নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে হাজার হাজার পর্যটকদের পদচারণা মুখর হয়ে উঠেছে।
যান্ত্রিক শহর থেকে খানেকের পেড়িয়ে থানচি সড়কের নীলগিরি, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক ভিউ, মিলনছড়িসহ সেসব স্থানে সকাল থেকে পর্যটকদের আগমন লক্ষ্যে করা গেছে। স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা আনন্দ ভাগাভাগি করতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। স্মরণীয় মুহূর্তগুলো সাক্ষী রাখতে পাহাড়ের চূড়ায় ক্যামেরাবন্দি করছেন কেউ কেউ। একই সাথে পেপে,কলা ও আমসহ পাহাড়ে উৎপাদিত ফল তৃষ্ণা জুড়াতে কেউ বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন কেউ খাচ্ছেন।
শহরের পাশে পড়ন্ত বিকালে সময়ের নীলাচল, মেঘলা, প্রান্তিলেকসহ পাহাড়ঘেরা বৃষ্টিতে মেঘ আর পাহাড়ের মনভোলানো দৃশ্যপট দেখতেও দূর দুরান্ত থেকে ছুটে আসছেন অনেকেই। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে পর্যটকরা চাঁদের গাড়িতে করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে। এবার ঈদের টানা ছুটিতে সবগুলো দর্শনীয় স্থান এখন ভ্রমণপিপাসুদের মুখর হয়ে উঠেছে।
পর্যটন সংশ্লিটরা জানিয়েছেন, টানা ছুটিতে আবার হোটেলগুলো কোথাও শতভাগ আবার কোথাও ৮০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। আর গেল রমজানের ঈদের ছুটিতে পর্যটক চেয়ে এবার টানা ছুটির দশ দিনের পর্যটক আগমনে পূর্বের রেকর্ড মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে পাহাড়ের ছুটে চলা চাদের গাড়ির প্রতিদিন দেড়শত থেকে দুইশত মতন ষ্টেশন ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে ছুটে যাচ্ছেন। ফলে একই ভাবে আশা করছেন চাদের গাড়ি মালিক সমিতি সংশ্লিষ্টরাও।
ঢাকা থেকে নীলগিরিতে বেড়াতে এসেছেন আবু সাইদ, শোভনসহ ১২ জনের একটি দল। তারা জানিয়েছেন, নীলগিরি আসার পথে কোথাও ছায়া,কোথাও রোদ এমন বৈচিত্র্যময় দৃশ্যের দেখে এসেছি। আর পাহাড়ে সড়কগুলো আঁকাবাঁকা রাস্তা। নীলগিরি হেলিপ্যাড থেকে পুরো পাহাড়টিকে উপভোগ করা যায়। বান্দরবান না আসলে বুঝতে পারতেন না ছোট শহর বান্দরবান প্রকৃতিতে ভরা।
চাদের গাড়ি লাইনম্যান কামাল বলেন, সকাল থেকে নীলগিরিসহ বিভিন্ন স্থানে শতাধিক চাদের গাড়ি ষ্টেশন ছেড়ে গেছে। আশা করছি এবার ঈদের পর্যটকদের কাছে চাদের গাড়ি আরো চাহিদা বাড়বে।
বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন বলেন, বান্দরবান জেলা শহরের হোটেল, মোটেল ও অবকাশযাপন কেন্দ্রগুলোর ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে। জেলা শহরে একসঙ্গে প্রায় ছয় হাজার পর্যটকের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে।পর্যটকরা নিরাপতে ঘুরে বেড়াতে পারবেন।
বান্দরবান টুরিস্ট পুলিশের পরির্দশক মোঃ মাহবুবুর রহমান, বলেন টানা ঈদের ছুটিতে পাহাড় কণ্যা বান্দরবানে পর্যটকদের আগমন ঘটেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে সাদা পোশাক, গোয়েন্দা সংস্থাসহ টহন টিম বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি পর্যটকরা নিশ্চিন্তে যেখানে সেখান ঘুরে বেড়াতে পারবেন।