রাজনীতি

বিএনপিকে কঠোর হতে বাধ্য করবেন না - এড. মনা

পতিত আওয়ামী লীগের কেউ দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা কোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করার আহবান জানিয়ে খুলনা বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, স্বৈরাচারী হাসিনা পালিয়ে গিয়েও থেমে নেই; দেশে নৈরাজ্য, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। স্বৈরাচারের দোসররা সেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের আপচেষ্টা করছে। ফের যদি আওয়ামী সন্ত্রাসীরা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা কোনো ধরনের অরাজকতা পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবেনা; কঠোর হস্তে জবাব দিতে হবে। দীর্ঘ ১৫ বছর এদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে যে সফলতা পেয়েছি তার মর্যাদা ধরে রাখতে হবে।

সোমবার (২১ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় কেডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপি কার্যালয়ে বক্তব্যরা এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মাত্র আটমাসের মাথায় আওয়ামী লীগের সক্রিয় হচ্ছে। রাজপথে প্রকাশ্যে ঝটিকা মিছিল করছে। ঝটিকা মিছিলের নেপথ্যে কারা মদদ দিচ্ছে? গণ-অভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে শেখ হাসিনা। তার পালিয়ে যাওয়ার মধ্যদিয়ে দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরশাসকের অবসান ঘটেছে। কিন্তু প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে হাজারো শহিদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কিভাবে আওয়ামী লীগ রাজপথে মিছিল করলো খুলনাবাসি জানতে চায়। ফ্যাসিবাদ সরকারের বিদায় হলেও দেশকে অস্থিতিশীল করতে পরাজিত ফ্যাসিবাদরা গভীর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে আর এদের মদদ দিচ্ছে দেশের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা দোসররা। অবিলম্বে দোসরদের খুঁজে বের করতে হবে। পতিত স্বৈরাচার খুনি হাসিনার দোসরদের নৈরাজ্য, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল পুর্ব সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী দোসরদের চিহ্নিত করে তাদের মুখোশ প্রকাশ্যে উন্মোচন করতে হবে।

বক্তারা বলেন, নির্বাচন ছাড়া কোনো সরকার দীর্ঘদিন থাকলে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার জন্ম নেয়। বিএনপি জনগণের গণতান্ত্রিক ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার সাহসী ও ত্যাগী ভূমিকার কারণে দেশের মানুষ আজ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। আমরা যে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি তা হারিয়ে যেতে দিবো না। যেখানেই পতিত সরকারের দোসররা সংঘবদ্ধ হবে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

অবিলম্বে মিছিলকারীদের গ্রেপ্তার করার দাবী জানিয়ে বলেন, খুলনায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়েছে কিন্তু অজ্ঞাত কারনে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না পুলিশ প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন রেখে তারা বলেন, বিএনপি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, বিএনপিকে কঠোর হতে বাধ্য করবেন না। বিএনপি ঘুরে দাঁড়ালে যদি কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিত সৃষ্টি হয় তার জন্য পুলিশ প্রশাসনই দায়ি থাকবেন। খুলনার মাটিতে কোন আওয়ামী লীগের কোন ফ্যাসিস্টের জায়গা হবে না-হবে না।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এড. মোমরেজুল ইসলাম, খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খাইরুল ইসলাম, শেখ তৈয়েবুর রহমান, গাজী তফসির আহমেদ, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, হাসানুর রশীদ চৌধুরী মিরাজ, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এ্যাড.নুরুল হাসান রুবা, কাজী মাহমুদ আলী, শের আলম সান্টু, আবুল কালাম জিয়া, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, একরামুল হক হেলাল, মো. রইজ উদ্দীন, মো. মামুন শেখ (মেম্বর) ও শেখ আনোয়ার হোসেন প্রমূখ।

পরে দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে কেডি ঘোষ রোড, পিসি রায় রোড, যশোর রোড হয়ে ফেরিঘাট মোড় ঘুরে স্যার ইকবাল রোড় দিয়ে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এসময় নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

বায়ান্ন/আরএস



সম্পর্কিত খবর