ঢাকা

জনতার সংযোগ: ফোন দিলেও রিসিভ করে না কেউ

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সাথে সদরের জনগণের সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে এবং তাঁদের সমস্যা সমাধানের জন্য সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডে স্থাপন করা হয়েছে ‘জনতার সংযোগ’ টেলিফোন বুথ।

তবে বাস্তবে সেই বুথগুলো এখন কার্যত অচল। অভিযোগ উঠেছে, নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অধিকাংশ সময় ফোন কল রিসিভ করা হয় না। কোথাও কোথাও বুথে টেলিফোন সেটই নেই।

সরেজমিনে সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের সামনের বুথে গিয়ে দেখা যায়, নির্দিষ্ট বুথে কোনো টেলিফোন সেট নেই। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টেলিফোন সেটটি চেয়ারম্যানের কক্ষে রাখা হয়েছে।

ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম আরমিছ জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে টেলিফোন সেটসহ সংযোগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে এনে রাখা হয়েছে। যদি কেউ অভিযোগ করতে চায়, এখান থেকে সরাসরি ফোন করবে। টেলিফোন স্থানান্তরের কোনো নোটিশ টানানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, সে ধরনের কোনো নোটিশ টানানো হয়নি। পরে চেয়ারম্যানের কক্ষে গিয়ে সংযোগহীন টেলিফোন সেট দেখা যায়।

দাইন্যা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আবু সাঈদ মিয়া জানান, প্রথম দিকে বেশ কিছু লোক টেলিফোনের মাধ্যমে অভিযোগ করেছে। বর্তমান অবস্থা জানি না। আমি বিষয়টি জেনে আপনাকে জানাব।

সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের অবস্থাও একই রকম। ইউনিয়নের পার বহুলীর গোলচত্বর এলাকায় টেলিফোন বুথ স্থাপন করা হলেও ভেতরে কোনো টেলিফোন সেট নেই।

স্থানীয় সিএনজিচালক জামাল উদ্দিন জানান, কিছুদিন পূর্বে আমি একটি জরুরি প্রয়োজনে ওই লাইনে বহুবার ফোন দিয়েছি, কিন্তু কেউ রিসিভ করেনি। একই অভিযোগ স্থানীয় বৃদ্ধ রহিজ উদ্দিনের। তিনি জানান, অনেক চেষ্টা করেও তিনি স্থাপিত টেলিফোনের কোনো সংযোগ পাননি।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও পৌর এলাকার দায়িত্বে থাকা মাহমুদুল হক সানু জানান, পৌর এলাকার কাজীপুর (১০ নম্বর ওয়ার্ড), সন্তোষ (৭ নম্বর ওয়ার্ড) ও বৈল্লা (২ নম্বর) ওয়ার্ডে তিনটি টেলিফোন দেওয়া হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফোনগুলো বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। বিকল্প উপায় হিসেবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হটলাইন নম্বর পোস্টার আকারে টানিয়ে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ইতালিতে সরকারি সফরে থাকায় তাঁর ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) সৈয়দ টিটোর সাথে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। এখন পেলাম, যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনগণ ও জনপ্রতিনিধির মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সেতু হিসেবে ‘জনতার সংযোগ’ প্রকল্পের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে বুথগুলোতে টেলিফোন না থাকা, সংযোগ না থাকা এবং ফোন রিসিভ না করার কারণে প্রকল্পটি তার লক্ষ্য থেকে ছিটকে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অনেকের মতে, বুথগুলো জনসমক্ষে না রেখে ইউপি চেয়ারম্যানের কক্ষে নিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে অভিযোগ জানানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার নোটিশ না থাকায় অনেকেই বুথের অবস্থান সম্পর্কে জানেন না।

স্থানীয়দের দাবি, ‘জনতার সংযোগ’ নাম সার্থক করতে হলে বুথগুলোতে দ্রুত টেলিফোন সেট স্থাপন, সংযোগ সচল রাখা এবং নির্দিষ্ট সময়ে ফোন রিসিভ করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনে এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ করতে ‘জনতার সংযোগ’ ফোন বুথ উদ্বোধন করা হয়। ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নে ফোন বুথ উদ্বোধন করেন আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

 

 

জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর উদ্যোগে টাঙ্গাইল-৫ আসনে মোট ৩০টি ফোন বুথ স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ১২টি ইউনিয়নে ১২টি বুথ এবং পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ১৮টি বুথ থাকবে।

 

 
 


সম্পর্কিত খবর