বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমাদেরকে যে কোনো মূল্যে ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে। মত ভিন্নতা থাকবে, আমরা বসবো, আলোচনা করবো, এমন কিছু আমরা বলবো না, এমন কিছু করা থেকে আমরা বিরত থাকবো, যাতে করে কোনোভাবেই সৈরাচার বা তার প্রেতাত্মারা আবার এ দেশের মানুষের কাধে চেপে বসতে পারে।
শনিবার (২২ মার্চ) ১২ দলীয় জোটের ইফতার অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী দলগুলোকে নিয়ে দেশের মানুষের সামনে ৩১ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল বিএনপি। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা ছিলেন, সবার লক্ষ্য ছিল দেশ ও জনগণ। মানুষ দেখতে চায় বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দু:খজনকভাবে অমরা দেখছি একটি পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে। সংস্কার এবং নির্বাচনকে মুখোমুখি দাড় করানো হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন যে সংস্কার আগে হবে তারপর নির্বাচন হবে। আমি ব্যাক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি যেটা শেষ হয়ে যায় সেটা সংস্কার হতে পারে না। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। যদি কোনো একটি বিষয় শেষ হয়ে যায় সেটি সংস্কার নয়। কাজেই সংস্কার শেষ হয়না সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া।
রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এখানে আমরা যারা আছি আমাদের রাজনীতির ভিন্ন মত আছে, আদর্শ সবার এক নয়। কিন্তু একটি জায়গায় আমরা সকলে এক, বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ, গণতন্ত্র। এখানে কোনো বিভেদ নেই। বেসিক বিষয়টিতে আমরা সকলে একত্রিত। এদেশের গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিগত পনের বছরে আমরা আমাদের বহু সহকর্মীকে হারিয়েছি। জুলাই-আগষ্ট মাসে যে অভ্যুত্থান হয়েছে সে অভ্যুত্থানে আমাদের আপনজনদে, সহকর্মীদের, পরিচিতজনদের হারিয়েছি।
দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আসুন যেই ঐক্যকে নিয়ে আমরা সৈরাচারকে বিদায় করেছিলাম সেই ঐক্যকে আমরা ধরে রাখি। আমাদের চেষ্টা থাকবে আগামী দিনে ঐক্যকে বজায় রেখে এ দেশের মানুষের প্রত্যাশিত গণতন্ত্রকে আমরা প্রতিষ্ঠিত করবো। এ দেশের মানুষের প্রত্যাশিত সংস্কারকে আমরা সকলে মিলে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবো।
বায়ান্ন/আরএস