জামালপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরিষাবাড়ী কলেজ জাতীয়করণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে, সদ্য নাম পরিবর্তন হওয়া "সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ" এর নতুন নাম "সরকারি সরিষাবাড়ী কলেজ" নিয়ে বিভ্রান্তির প্রতিবাদ জানান তারা।
শনিবার দুপুরে কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী সরিষাবাড়ী কলেজটি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়করণের প্রক্রিয়ায় থাকলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী, উন্নত অবকাঠামো এবং একাডেমিক সুনাম থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে এ কলেজ জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা আরও জানান, ২০১৬ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের প্রভাবশালী একজন এমপির সুপারিশে পাশের একটি নবপ্রতিষ্ঠিত এমপিওভুক্ত কলেজ—"বঙ্গবন্ধু কলেজ"—জাতীয়করণ করা হয়। অথচ জাতীয়করণের সব শর্ত পূরণ করেও সরিষাবাড়ী কলেজ সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। সম্প্রতি ওই কলেজটির নাম পরিবর্তন করে "সরকারি সরিষাবাড়ী কলেজ" রাখা হয়েছে, যা মূল সরিষাবাড়ী কলেজের নামের সঙ্গে মিল থাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
বক্তারা অবিলম্বে সরিষাবাড়ী কলেজ জাতীয়করণের দাবি জানান এবং ইতোমধ্যে জাতীয়করণপ্রাপ্ত কলেজটির নতুন নাম পরিবর্তনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিম উদ্দিন আহমেদ, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম পিন্টু, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিমুল এহছান শাহীন, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবিএম সাইদুল হাসান শিপন, সহকারী অধ্যাপক খায়রুল আলম শ্যামলসহ কলেজের সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বক্তারা শিক্ষাক্ষেত্রে এ ধরনের নামীয় জটিলতা ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।