খবর প্রতিদিন

সিলেটে স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান হত্যা মামলায় কামরুলের মৃত্যুদন্ড

সিলেটে স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যা মামলায় হাসান মুন্সি ওরফে কামরুল হাসান (৪৪) নামে এক আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর আদালতের বিচারক নুরে আলম ভূঁইয়া এ রায় প্রদান করেন। অত্র আদালতের অ্যাডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট জুবায়ের বখত এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত হাসান মুন্সি গোপালগঞ্জ জেলার মাকসুদপুর খালপার কমলাপুরের নজরুল মুন্সির ছেলে। তিনি হত্যাকান্ডের আগে স্ত্রী সন্তান নিয়ে নগরের দক্ষিণ সুরমার ঝালোপাড়া খেয়াঘাট গলির প্রবাসী কামালের কলোনীর ৫ নং বাসায় ভাড়া থাকতেন।

মামলার বরাত দিয়ে আদালত সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই সকালে নগরের দক্ষিণ সুরমা ঝালোপাড়া খেয়াঘাট গলির প্রবাসী কামালের মালিকানা সেমিপাকা ঘরের বাথরুম থেকে গৃহবধূ জনি আক্তার জয়নব ওরফে শিউলি (৩৫), তার সন্তান মিম (১৫) ও তাহসিন (১৩) এর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই নগরের কালিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বাদশা মিয়া বাদি হয়ে নিহতের স্বামী হাসান মুন্সিসহ অজ্ঞাত ৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনা ১৬ বছর পূর্বে জনি আক্তার সঙ্গে হাসান মুন্সির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সিলেটের দক্ষিণ শর্মার ঝালোপাড়া এলাকায় বসবাস করতো তারা। তাদের ঔরসে প্রথম কন্যা সন্তান হওয়ার পর শিউলিকে নিয় হাসান মুন্সি গ্রামে চলে যায় এবং ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে ২ বছর ধরে কাজ করে। এরই মধ্যে তাদের ঔরসে আরেকটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। ঘটনার অনুমান ১৫ দিন আগে হাসান স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সিলেটে চাচাতো ভাই মামলার বাদির বাসায় ওঠেন। বাসায় দুইদিন থাকার পর ঝালোপাড়ার একটি কলোনিতে বাসা ভাড়া নিয়ে তারা বসবাস করতে থাকে।

২০১৮ সালের ৩০ জুলাই সন্ধ্যার পর বাদি জানতে পারেন হাসান মুন্সি তার চাচাতো বোন ও ভাগ্নিদ্বয়কে ওই বছরের ২৬-২৮ জুলাই তারিখের মধ্যে যে কোনো সময় শ্বাসরোদ্ধ করে হত্যার পর বাসা বাইরে দিয়ে তালা মেরে পালিয়ে যায়। ৩০ জুলাই সকালে দুর্গন্ধ ছড়ালে ঘরের দরজা ভেঙে বাথরুম থেকে গলিত অবস্থায় পুলিশ তাদের মধ্যে উদ্ধার করে।

 

মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) লোকমান আহমদ। পরবর্তীতে পিবিআই 'র পরিদর্শক কামরুজ্জামান তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি একমাত্র হাসান মুন্সিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলাটি বিচারের জন্য অত্র আদালতে প্রেরণ করা হলে আসামের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের পর ১২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত প্রিয় দুই মেয়ে হত্যাকান্ডের দায়ে হাসান মুন্সিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।



সম্পর্কিত খবর