নিজস্ব প্রতিবেদক :
গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে অকার্যকর হয়ে পড়া রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ‘রাসেল লজ’ অবসায়নে হাইকোর্টের দেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রেখে রায় প্রকাশ করেছেন আপিল বিভাগ। গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা, জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে এই কোম্পানির বিরুদ্ধে। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই রায় প্রকাশ করেন। রোববার (১ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব ও ব্যারিস্টার রিফাত রহমান। এর আগে গত ১৪ জুন অকার্যকর হয়ে পড়া এই ডেভেলপার কোম্পানিটি অবসায়নের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছিলেন আপিল বিভাগ। সেদিন আইনজীবী সাকিব মাহবুব জানান, একজন ক্ষুব্ধ জমির মালিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া এই রায়টি একটি বিরল ও উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট খাতের আইনি অঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মামলার বিবরণ তুলে ধরে ওই আইনজীবী জানান, ২০০২ সালে সম্পাদিত একটি রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট চুক্তির মাধ্যমে এ ঘটনার সূত্রপাত। ওই চুক্তির অধীনে ভাষা সৈনিক ড. সৈয়দ আবদুল মালেকের পরিবার একটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য ঢাকার ধানমন্ডি রায়ের বাজার শেরেবাংলা রোডের ২৮৮ নম্বর সম্পত্তিটি রাসেল লজের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু প্রাথমিক ভিত্তি (পিলার) স্থাপনের পর ডেভেলপার কোম্পানিটি প্রকল্প এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হয় এবং শেষ পর্যন্ত সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ফলে ভবনটির কাঠামো অসম্পূর্ণ থেকে যায় এবং প্রকল্পটি পরিত্যক্ত হয়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কোনো অর্থবহ বাণিজ্যিক কার্যক্রম না থাকায় কোম্পানিটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। অন্যদিকে ভবন অনির্মিত অবস্থায় ফেলে রেখে রাসেল লজের কথিত মালিক এনায়েত করিমসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা পালিয়ে যান। এই পরিস্থিতিতে জমির মালিকেরা বকেয়া ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও সম্পত্তি রক্ষার খরচসহ সব আর্থিক বোঝা বহন করতে বাধ্য হন।
পরবর্তীকালে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার তথ্যও সামনে আসে। অ্যাপার্টমেন্ট দেওয়ার নামে ঢাকা শহরের বহু প্রকল্প থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে কেটে পড়েন কোম্পানির কর্তাব্যক্তিরা। পরবর্তীতে তারা ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে বিভিন্ন জালিয়াতির আশ্রয় নেন এবং আদালতের নির্দেশের পরও হাজির হননি।
২০০২ সালে মূল জমি মালিকের মৃত্যুর পর, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তার চিকিৎসক ছেলে পরিবার ও পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে এসে আইনি লড়াই চালিয়ে যান।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালে হাইকোর্ট বিভাগ (কোম্পানি ম্যাটার নং ৩৩/২০১৬) কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর অধীনে ডেভেলপার কোম্পানিটি অকার্যকর হয়ে পড়া এবং চুক্তিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে অবসায়নের নির্দেশ দেন। তৎকালীন বিচারপতি এ এফ এম আব্দুর রহমান রাসেল লজ বিলুপ্তকরণের এই আদেশ দিয়েছিলেন। এই আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। সেই রায় প্রকাশ হয়েছে।