জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে এবার অংশ নিয়েছে খেলাফত মজলিস। দলটি নির্বাচন-সংস্কারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের মতামত উপস্থাপন করেছে। বিশেষ করে, আওয়ামী লীগের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
শনিবার (২২ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।
তিনি জানান, কমিশনের ১৬৬টি সুপারিশের মধ্যে ১৪০টিতে দলটি একমত হয়েছে, ১০টি সুপারিশে আপত্তি জানিয়েছে এবং ১৫টি বিষয়ে আংশিক সম্মতি রয়েছে। একটি ইস্যুতে আরও বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন তারা।
সংলাপে খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি ১০ মাসের মধ্যেই বাস্তবায়ন সম্ভব। দলটি উল্লেখ করে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলে জনগণের রায়ের প্রতি অবিচার করা হবে।
প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক আবদুল জলিল, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু।
সংলাপে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ ছাড়াও সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ইতোমধ্যে বিভিন্ন দলের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক দল সংলাপে অংশ নেবে। কমিশনের লক্ষ্য হলো একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যা দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে সহায়ক হবে।