খবর প্রতিদিন

এক মণ্ডপে আগাম শুরু হলো শারদীয় দুর্গা পূজা

এই পূজা শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও ইউনিয়নের ইছামতী চা বাগানের মঙ্গলচন্ডির থলিতে শুরু হয়েছে
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার এক মণ্ডপে পাঁচ দিন আগেই শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়ে গেছে।
বৈদিক রীতি অনুযায়ী, দেবী দুর্গার নয় রূপের পৃথক প্রতিমা তৈরি করে এখানে নয় দিনের পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
আগামী শুক্রবার শুভ ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এই মুহূর্তে দেশের অন্যান্য মণ্ডপে যখন চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজ; ঠিক তখন শ্রীমঙ্গলের শ্রীশ্রী মঙ্গল চণ্ডির থলির পূজা মণ্ডপ ঢাকের বাদ্য ও উলুধ্বনিতে মুখরিত।
পূজার প্রধান পুরোহিত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, রবিবার দেবীর শৈলপুত্রী রূপে এবং সোমবার ব্রহ্মচারিণী রূপে পূজা হবে। এরপর একেক দিন চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মান্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রী, মহাগৌরী, সিদ্ধিদাত্রী রূপে পূজার্চনা হবে। দশমীতে হবে বিসর্জন।
নবদুর্গা পূজা কমিটির সভাপতি পরিমল ভৌমিক বলেন, ১৪ বছর ধরে শ্রীমঙ্গলের প্রাচীন দেবস্থলী শ্রীশ্রী মঙ্গল চণ্ডির থলিতে এ পূজার আয়োজন হয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, মণ্ডপে প্রতিদিন মানুষের মধ্যে সৃষ্ট অসুরিক শক্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব শান্তি কামনায় দেবী দুর্গার কাছে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। এ মণ্ডপে পূজা দেখতে সারাদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন।
পূজা দেখতে হবিগঞ্জ থেকে আসা ভক্ত রীনা রানী দেব বলেন, এ মণ্ডপ খুবই জাগ্রত। এটি প্রায় ৫০০ বছরের পুরাতন দেবস্থলী। এখানে এক মনে মা দুর্গার কাছে কিছু চাইলে ফল পাওয়া যায়।
মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানা ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বলেন, শ্রীমঙ্গলের প্রত্যেকটি পূজামণ্ডপে সাদা পোশাকে একজন পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) ও একজন আনসার সদস্য সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের একমাত্র এই মণ্ডপেই দেবী দুর্গার ৯টি রূপে আড়ম্বরপূর্ণ পূজার আয়োজন করা হয়। তাই এখানে সারা দেশ থেকে হাজার হাজার মানুষের ভিড় হয়। এখানে নিরাপত্তার বিষয়টি জোরদার করা হয়েছে বেশি।


সম্পর্কিত খবর