- অমান্যকারী কর্মীদের জন্য রয়েছে টর্চার সেল
- প্রোডাক্ট সেবনে ভোক্তারা হচ্ছেন অসুস্থ
জিএমআইটি উদ্যোক্তা তৈরীর নামে যুব সমাজকে সেলসম্যান বানিয়ে যেমন প্রতারণা করছে তেমনি এলিট কর্পোরেশনের নামে তৈরী ভেজাল প্রোডাক্ট বিক্রি করে প্রতারনা করছে ভোক্তাদের সাথে। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মি সুত্রে জানা যায়, উদ্যোক্তা হওয়ার আশায় আসা বিক্রয়কর্মিরা বিসিএসআইআর থেকে সেম্পল টেষ্ট করা একটি সার্টিফিকেট দিয়ে নিজেদের গোডাউনে বানানো হারবাল প্রোডাক্টই ভোক্তাদের কাছে লোভনীয় অফার দিয়ে বিক্রি করছে। এমন কিছু সার্টিফিকেট প্রতিবেদকের হাতে আসে জিএমআইটিতে কাজ করা কয়েকজন কর্মীদের থেকে। জানা যায়, তাদের লোভনীয় অফারে আনা মডেল মহিলা ও পুরুষ দিয়ে তাদের তৈরী পন্যের আকর্ষনীয় প্রচার করে। যা দেখে যে কোন ভোক্তার চোখ কপালে উঠার জো। এমন অফার দেখলে কার না কিনতে ভালো লাগে। এসব হারবাল প্রোডাক্ট খেয়ে যদি মোটাতাজা, স্লিম হওয়া, সেক্সের স্থায়ী সমাধান, সকল গোপন সমস্যার স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায় আর কি লাগে। যত টাকাই হোক কিনে নিতে মন চাইবেই। সেসব পন্যগুলো যদি হয় সেক্সের জন্য, লাভ ফর এভার, এরাবিয়ান কফি, সঠিক ফিগারের জন্য পারপেক্ট ফিগার, লম্বা হওয়ার জন্য হাইট ডেভেলাপ, ্ওজন কমানোর জন্য ওয়েটলস টেব, কেটোগ্রিন কপি, ন্যাচারেল ডায়েট, চুলের মজবুতের জন্য স্যান্ডেল উড হেয়ার ওয়েল, বানানা শেক, হানি সেক, হেলদি প্লাস, হর্টনাইটের মতো পন্য তাহলে আর না কিনে উপায় কি? জানা যায়, এসব পন্যর মোড়ক তৈরী করে নগরীর আন্দরকিল্লার এক দোকান থেকে। সেইসাথে নগরের প্রায় স্থানে গোপন গোডাউন বা কারখানা ভাড়া করে প্রোডাক্টের কৌটা বা বোতল জাত বা প্যাকেট জাত করে। প্রশাসনের অভিজানের ভয়ে তাদের এসব গোডাউন বা কারখানার কোন সাইনবোর্ড দেয়া হয়না। আবার এসব গোডাউন বেশীদিন স্থায়ী হয়না। প্রতি দুমাস অন্তর অন্তর চেঞ্জ হয়। এসব পন্যের বিষয়ে কেউ জানতে চাইলে তারা বলেন, তাদের প্রোডাক্ট বিসিএসআইআর দ্বারা পরীক্ষিত, সেইসাথে সিএমপি উপপুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানের পন্যের মান সংক্রান্ত সত্যায়িত একটি কপি ব্যবহার করে। তারা বলে পুলিশ সংস্থা থেকেও তারা ছাড়পত্র সার্টিফিকেট পেয়েছে। তারা ভোক্তা বা গ্রাহককে চট্টগ্রাম সিএমপি উপপুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানের দেয়া পন্যের মান সংক্রান্ত একটি ছাড়পত্র সার্টিফিকেট দেখান। যা দেখে ভোক্তা বা গ্রাহকরা বিশ^াস করে কোন যাছাই বাচাই না করে এসব পন্য কিনছে অনায়াসে। এসব পন্য ব্যবহারে গ্রাহকের রিভিউ খারাপ হলে ডাইরেক্টর বা লিডাররা তা শুনতে চায়না, তাদেরকে বলে সব গ্রাহকের হরমোন এক নয় বা সবার শরীরের গঠন এক নয় তাই তাদের পন্য হয়তো পুরো কাজ করে নাই। তারা মনোবল নিয়ে নতুন গ্রাহক তৈরী করতে কর্মিদের উদ্ভুদ্ধ করে এবং পরের আরো কয়েকটি কোর্স ব্যবহার করার জন্য বলে। গ্রাহকরা এইসব হারবাল পন্য খেয়ে কাজ না হলে গ্রাহক খারাপ রিভিউ দিয়ে ফোন করলে সেই নম্বর ব্লক করে দেয়। এই কর্মিদের মুখপটু করে ট্রেনিং দেয়া হয়। যাদের লোভনীয় অফারে গ্রাহক না কিনে উপায় নেই। আরেক কর্মি সুত্রে জানা যায়, তাদের প্রতিষ্ঠানে যে সব বেকার কর্মিরা একবার জয়েন্ট করে তারা এই প্রতিষ্ঠানের দুইনম্বরী দেখে সরে আসতে চাইলে সহজে এই প্রতিষ্ঠান থেকে বের হতে পারেনা। জানা যায়, বের হতে গেলে তারা তাকে অন্য কর্মি ও তাদের নিজস্ব বাহিনী দিয়ে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে নিজস্ব টর্চার সেলে নিয়ে বা অন্যান্য কর্মিদের ভয়ভীতি দেখানোর জন্য অনেক সময় তাদের সামনেই মাইরধর করে। যার কারনে তারা অনেকেই এই প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়না, এই পথকে বেচে নেয়। এবং জনগণকে লোভনীয় অফারে প্রতারিত করাই তখন তাদের কর্ম হয়ে পড়ে। প্রতিবেদক গোপন ভিডিওতে কয়েকজন কর্মির সাথে আলাপ করে বলছে, প্রোডাক্টগুলোর যে লোভনীয় লাভের কথা বলে, সে হিসাবে গ্রাহক লাভ পায়না । অনেক সময় ভোক্তারা অভিযোগ করে, তাদের কোনো প্রোডাক্টে কাজ হয়নি। তারা এসব পন্য ব্যবহার করে কোন উপকার পায়নি। এই বিষয় জানতে এলিট কর্পোরেশনের পন্য ব্যবহার করেছে এমন কুমিলাুø জেলার বরুড়া থানার বাতাইছড়ি গ্রামের ক্রতা সুমনের সাথে যোগাযেগে করলে তিনি বলেন, আমি ওজন বাড়ানোর জন্য একটি মিল্ক শেক নিয়েছিলাম ১১০০ টাকা দিয়ে। নেওয়ার সময় অনেক রিভিউ দিয়ে উপকারিতার কথা বলে ছিল। সেবনের ১০/১৫ দিনের মধ্য পরিবর্তন বুঝতে পারবো ১ মাসে ৪/৫ কেজি ওজন বাড়বে । কিন্তু কোনো পরির্বতন হয়নি তাই ১ মাস পর বিক্রয় কর্মির সাথে যোগাযোগ করে ছিলাম। বলেছে ২য় র্কোস বাদাস শেক সেবন করতে হবে। তাদের কথায় আমার সন্দেহ হওয়ায়, আর নতুন করে ওর্ডার করি নাই। চট্টগ্রাম জেলার বন্দর থানার সিমেন হোস্টলের এর ছাত্র হাসান বলেন, আমি ও আমার ব›ধু হৃদয় খান আমরা দুজন মিলে ২ টি ওজন বাড়ানোর জন্য মিল্ক শেক ওর্ডার করেছিলাম, আমার ওজনের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিক্রয় কর্মিরা প্রোডাক্ট নেওয়ার সময় বলেছিল খাওয়ার রুচি বাড়বে, ঘুম ভালো হবে। এসব কিছুই হয়নি। আমরা পরে বিক্রয় কর্মিদের কাছে অফিস কোথায় জানতে চাইলে. আমাদের আইডি ব্লক করে দেয়। পরে বুঝতে পারি তারা ভুয়া প্রোডাক্ট সেল করে। মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার ছিলারচর এলাকায় সাগর বলে, আমার বউয়ের জন্য আমি ১৩০০ টাকা দিয়ে একটি ওজন কমানোর স্লিমিং টি নিয়েছিলাম। ১দিন খাওয়ার পর তার ডায়রিয়া হয়ে যায় । তাদের সাথে যোগাযোগ করলে, শরীরে অতিরিক্ত মেদ চর্বি পায়খানার মধ্য দিয়ে বের হবে বলে ভয়ের কোনো কারণ নাই। আমার বউ ২ দিন ডায়রিয়ার আক্রান্ত ছিলো এই কথা তাদেরকে জানালে তারা আমার আইডি ব্লক করে দেয়। এই ভাবেই লোভ দেখিয়ে তারা মানুষ ঠকিয়ে টাকা ইনকামের ব্যবসা করছে সারা বাংলাদেশে। দেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় ৩০/৪০ জন ক্রেতার সাথে কথা বলে জানতে পারি তারা ওর্ডার করার জন্য বিভিন্ন কথা বলে বিভিন্ন জাল সার্টিফিকেট ও রিভিউ দেয় কিন্তু কাস্টমার পন্য হাতে পাওয়ার পর আর কোনো যোগাযোগ রাখে না। কাস্টমার কোনো সমস্যা নিয়ে ২য় বার যোগাযোগ করতে চাইলে কাষ্টমারের আইডি ব্লক করে দেওয়া হয়। প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর প্রতিবেদকের নিউজ বন্ধ না হলে মানহানির মামলাসহ প্রতিষ্ঠানের তথ্য দেয়া দৈনিক বায়ান্ন পত্রিকার রিপোর্টার সিদরাতুল মুনতাহার মুঠোফোনে জিএমআইটির কয়েকজন কর্মি তুলে নেয়ার হুমকি দেয়। এ বিষয়ে তাদের ডাইরেক্টর একজন বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের সব করেন কামরুল কায়েস। তিনিই প্রশাসনসহ ও সাংবাদিকদের সবাইকে ম্যানেজ করেন।
এ বিষয়ে ডিবি উপপুলিশ কমিশনার(উত্তর) সাদিরা খাতুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এ বিষয়ে তথ্য আছে। পূর্বেও জিএমআইটির কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটা মামলা রয়েছে। আমরা বাকীদের গ্রেফতারে অভিযান চালাবো।