খবর প্রতিদিন

কর্মীই আব্দুল হাকিম চৌধুরীর প্রাণ

আব্দুল হাকিম চৌধুরী সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন টানা ১০ বছর। জেলা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। নানান সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত। গোয়াইনঘাটের যেখানেই যান সেখানেই নেতাকর্মীর জটলা লেগে যায়। প্রাণ খুলে কথা বলেন। আব্দুল হাকিম চৌধুরীও কর্মীদের কথা শুনেন একান্তভাবে। কর্মীদের নিয়ে বসে পড়েন উঠোনে, ঘরে। সুখ দুখের কথা শেয়ার করেন। ২৪ অক্টোবর দুপুর থেকে সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত আব্দুল হাকিম চৌধুরীর সাথে ঘুরে দেখা গেছে ওই পরিবেশ। এদিন গোয়াইনঘাট উপজেলার বাঘের সড়ক ট্রাক চালক সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে বেলা ১ টায় রওয়ানা হন সিলেট নগরী থেকে। সাথে ছিলেন বিএনপির কয়েকজন নেতা।

দুপুর আড়াইটায় বাঘের সড়ক এলাকায় পৌঁছেন তিনি। সেখানে গিয়ে সঙ্গিদের জানালেন হাজি সাহেবের (বিশিষ্ট মুরুব্বি আলহাজ সোনাফর আলী) বাড়িতে যাবেন দুপুরের খাবার খেতে। হাজি সাহেবের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা। বলতে গেলে অনেকটা অজপাড়াগাঁ। রাস্তার পাশে গাড়ি রেখে পায়ে হেঁটে রওয়ানা হাজি সাহেবের বাড়িতে। মেঠোপথে কিছুদূর যাওয়ার পর হাজি সাহেবের বাড়ি। কয়েক মিনিটের মাথায় সেখানে জড়ো হতে থাকেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। নেতাকে (আব্দুল হাকিম চৌধুরী) কাছে পেয়ে মহাআনন্দে তারা। প্রাণ খুলে কথা বলতে শুরু করলেন অনেকেই। একজনকে জিজ্ঞেস করলেন, তার বিরুদ্ধে মামলা মোকদ্দমা আছে কিনা? জবাব এসেছে। ওই কর্মী জানিয়ে দিলেন বিএনপি করলে মামলার আসামি হতেই হবে। এখন এটাই বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্যে পুরুস্কার। ওই কর্মী এও জানালেন এখন মামলার আসামি না হলে কোনো মজা নেই।

এরই মধ্যে খাবার টেবিল প্রস্তুত। খাবার শেষ হতেই আসরের নামাজের আজান কানে ভেসে আসে। নেতাকর্মীদের নিয়ে আব্দুল হাকিম চৌধুরী মসজিদের দিকে রওয়ানা হলেন। নামাজ শেষে রওয়ানা হলেন অনুষ্ঠানস্থলে। অনুষ্ঠান শেষ হতেই মাগরিবের নামাজের আজান। সকলকে নিয়ে নামাজ পড়তে গেলেন মসজিদে। মসজিদ থেকে বের হয়ে ছুটলেন বাজারের পাশে এক কর্মীর বাড়িতে। টিনসেডের এক কক্ষের ঘরে চৌকির উপর পাটি বিছিয়ে সেখানে বসলেন নেতাকর্মীদের নিয়ে। আড্ডায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠে আলোচনা। কিন্তু আব্দুল হাকিম চৌধুরী তীক্ষè নজর ছিল কর্মীদের মুখের দিকে। আড্ডার মাঝেই তিনি কর্মীদের শোনালেন আশার আলোর কথা। ৩০-৪০ মিনিটের আড্ডা শেষে বিদেয় নিয়ে ফিরলেন নগরীতে।



সম্পর্কিত খবর