এক পাশের মসজিদের মাইকে আযান ভেসে আসছে। আরেক পাশের মন্দিরের মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের অনুষ্ঠান। মুসলিম ও হিন্দু ধর্মালম্বীদের লোকজন পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দিরে নিজ নিজ ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এ যেন সাস্প্রদড়ক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এমন সম্প্রীতির সাক্ষী হয়ে আছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের শ্রী শ্রী জগন্নাথ জিউর আখড়া (উপজেলা কেন্দ্রীয় মন্দির) ও আল মদিনা জামে মসজিদ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা সদরের জগন্নাথপুর পেরৈসভার জগন্নাথপুর এলাকায় প্রাচীনতম হিন্দু সম্প্রদায়ের কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী জগন্নাথ জিউর আখড়া স্থাপিত রয়েছে। এ মন্দিরে বিভিন্ন পুজার মন্ডপ তৈরী করে ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করে আসছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। মন্দিরের পাশেই প্রায় ৫ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জুনেদ মিয়ার অর্থায়নে আল মদিনা জামে মসজিদ নামে একটি ধর্মীয় উপাসনায় স্থাপন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হক জানান, যুগ যুগ ধরেই আমাদের এলাকার মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মিলেমিশে এক সঙ্গে সমাজে বসবাস করে আসছি। শুধু ধর্মীয় কার্যক্রম ছাড়া সামাজিক ও রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন ধরণের সামাজিক কাজে আমরা সম্পৃক্ত। এখানে যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন অটুক রয়েছে।
স্থানীয় ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন জানান, হিন্দু ধর্মালম্বীদের সংখ্যালঘু বলা হয়ে তাকে, কিন্তু আমরা কখনও তাদের কে সেরকম দেখি না। আমরা একে অপরের সুখ দুঃখে মিশে আছি। আমাদের ঈদে তাদের নিমন্ত্রন জানানো হয়। তাদের ধর্মীয় উৎসবেও আমাদেরকে নিমন্ত্রণ করা হয়। এটি চলে আসছে যুগের পর যুগ।
আল মদিনা জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন হাফেজ আজিজুর রহমান বলেন, পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দির স্থাপিত হলেও আমরা আমাদের ধর্ম পালন করছি।
তারা তাদের ধর্ম পালন করছেন। ইসলামে সকল ধর্মকে সম্মান করার নির্দেশনা রয়েছে। নামাজের সময় পুজার কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এতে আমাদের কোন সমস্যা হয় না।
শ্রী শ্রী জগন্নাথ জিউর আখড়ার সভাপতি শুধাংশু শেখর রায় বাচ্চু জানান, এ মন্দিরে স্থাপনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানা যায়নি। এখানে দুর্গাপুজাসহ সবধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সম্প্রীতি থাকায় কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
জগন্নাথ জিউর আড়়ার মন্ডপের পূজা কমিটির সভাপতি বিভাষ দে বলেন, বাপ দাদা যেভাবে ধর্মীয় সকল অনুষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করে এসেছেন। আমরা একইভাবে উৎসব উদ্দিপনার মধ্যে দিয়ে ধমীয় উৎসব করে আসছি। আমরা হিন্দু-মুসলিম একে অপরের সঙ্গে সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করে আসছি। আমাদের বৃহৎ পুজায় অনেক মুসলিম স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন। মুসলমাদের নামাজের সময় আমাদের অনুষ্ঠান আমরা বন্ধ রাখি। নামাজ শেষ হলে আবার অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে করে কারো কোনো সমস্যা হয়না।