দেশে জীবাশ্ম জ্বালানির আর কোনো নতুন প্রকল্প না করা ও অর্থায়ন বন্ধ, জলবায়ু বিচার নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অর্থায়ন এবং দ্রুত ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতে মোংলায় মানববন্ধন হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় মোংলার কানাইনগর পশুর নদীর পাড়ে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), পশুর রিভার ওয়াটারকিপার এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ। 'গ্লোবাল উইক অব অ্যাকশন'-এর অংশ হিসেবে এ মানববন্ধনের কর্মসূচি পালন করা হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন (UNGA 81) এবং কপ-৩১-এর (COP-31) প্রাক্কালে বিশ্বব্যাপী চলমান আন্দোলনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-র কেন্দ্রীয় নেতা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের পরিবেশযোদ্ধা মো. নূর আলম শেখ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ধরা-র নেত্রী অসীমা মন্ডল, বৃষ্টি সরকার, পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের সংগঠক রেশমা খাতুন, জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের মেহেদী হাসান প্রমুখ।
মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে বক্তারা জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে পরিচ্ছন্ন, ন্যায়ভিত্তিক ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর ভবিষ্যৎ সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বান জানান। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সুন্দরবনবিনাশী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করার দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ধরা-র কেন্দ্রীয় নেতা পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মো. নূর আলম শেখ বলেন, "জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করুন। জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করে দ্রুত ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করুন।"
তিনি আরও বলেন, "আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির মাধ্যমে বিগত সময়ে কতিপয় ব্যবসায়ী, আমলা ও রাজনীতিবিদ অলিগার্ক সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থিক খাতে লুটপাট ও চোরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। জ্বালানি নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। আমরা আশা করি, দ্রুততম সময়ে লুটপাটতন্ত্র ও চোরতন্ত্রকে রুখে দিয়ে সরকার সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানিতে বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করবে।"