দেশের খবর

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ: বাস্তবতার সমীকরণে নিম্ন আয়ের মানুষ

রোজার ঈদের আগমনী বার্তা হিসেবে বাঙালি মুসলিম সমাজের তুমুল জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ” কিন্ত চিরায়িত নিয়ম অনুযায়ী ঈদ আমাদের মাঝে উপস্থিত হলেও হাঁসিখুঁশি থাকতে পারেনা নিম্ন আয়ের মানুষরা। তারা শত  কষ্টের মাঝেও যেন বুকের ব্যাথা মুখের হাঁসিতে ঢাঁকার চেষ্টা করে যায়। কারন অনেক থাকলেও বাস্তবতার সমীকরণে অর্থের সংকট প্রধান কারণ।

বাবা কবে মার্কেটে যাবে সবাই ঈদের নতুন জামা কিনেছে আমাই কবে কিনে দিবে। ৮ বছরের আব্দুর রহমানের এমন বায়না কয়েক দিন থেকে। ছোট মেয়েটির বয়স ৩ বছর হলেও ভাঙা গলায় বাবা আমি নতুন জামা নিব। যতবার ছেলে মেয়ের এই কথাগুলো শুনি ততবার বুকটা ফেটে চৌচির হয়ে যায়। তারপরেও আজ নয় কাল নানা বাহনা দিয়ে অভিনয়ের হাঁসিতে দিন কাটিয়ে দিচ্ছি। নওগাঁ সদরের রাজমিস্ত্রি সিরাজুল ইসলাম এর,চার সদস্যের পরিবারে একজন মাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি। দিনে মাত্র ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা আয় এটা দিয়ে একদিকে সংসারের খরচ অন্যদিকে কিস্তি এই অবস্থায় ঈদে কিভাবে ছেলেমেয়েদের খুশি করবো নিজেও জানিনা। তবে হাজার কষ্টের মাঝে ঋন করে হলেও অল্পদামে ছেলে মেয়েকে নতুন কাপড় কিনে দিব। আপনি ও ভাবির কেনাকাটা করবেননা এমনটা জানতে চাওয়া হলে মকসেদুল রূপালী বাংলাদেশকে বলেন,আমাদের গত বছর কেনা আছে সেটায় ইস্ত্রি করে এবার ঈদে পড়বো।

নওগাঁ শহরে ৬০ বছর বয়সী  রিক্সা চালক রুস্তুম চাচার সঙ্গে রূপালী বাংলাদেশের একান্ত আলাপচারিতার এক পর্যায়ে কথা হয়,চাচা ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি কেনাকাটা কি শেষ হয়েছে?  রুস্তম চাচার দু’চোখে ছলছল করছে জল,কিছুক্ষন স্থির থেকে ভারীগলায় উওর দেয়,ভাতিজা সত্য কথা বলতে করোনার সময় থেকে যেকটা ঈদ গেছে একটা ঈদেও নতুন কিছু কেনাকাটা করিনি। তবে অনেকে দায় সেগুলাই ব্যবহার করি। গরীবের আবার ঈদ আছে কথাটি বলেই রিক্স্রার চাকা ঘুরিয়ে বিদায় নেয় রুস্তম চাচা।

নওগাঁ শহরের বাঁটার মোড়,ফুটপাতে কেনাকাটায় ব্যস্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মধ্যবয়সী যুবককে, ঈদের কেনাকাটা সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলেন,ভাই থাই লাগানো শোরুম গুলোতে যেতে মন চায় কিন্ত সাধ থাকলেও সাধ্য নেই। তাই ফুটপাত থেকেই কেনাকাটা করছি। তবে ইচ্ছা আছে সন্তানের জন্য একটু ভালো মানের পোশাকটি কেনার।

শহরের পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় এক অস্থায়ী দোকানে পুরাতন পোশাক কিনতে আসা ষাটোর্ধ এক বৃদ্ধা জানান, এবারের ঈদে এখন পর্যন্ত কোন কিছু কিনব্যার পারিনি, মূলত নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং চাহিদার তুলনায় উপার্জন কম হওয়ায় এমন বিপাকে পড়তে হয়েছে তাকে। ঈদে নতুন পোশাকের পরিবর্তে পুরাতন পোশাক ক্রয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে চোখে অশ্রু, জীবনের প্রতি কয়েক হাজার অভিযোগ নিয়ে তিনি আরও বলেন,হামাকেরে কপাল খারাপ বাবা, হামার জীবনডাই দুক্কু কষ্টে ক্যাটে গেলো। হামার এক ছাওয়াল বিয়্যা করে ভিন্ন হছে বা, হামাক খরচাপাতি দেয়না, নাতিড্যার জন্যে একটা কমদামের পেন কিনব্যার আলচি। শুধু তিনিই নয় শহর কিংবা গ্রাম, কৃষক কিংবা শ্রমিক এমন সল্প আয়ের মানুষদের ঈদকে সামনে রেখে চলছে পরিবারের চাহিদা মেটানোর লড়াই। 

বায়ান্ন/প্রতিনিধি/পিএইচ



সম্পর্কিত খবর