সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী একটি বাজার হচ্ছে পাগলাবাজার। বাজারের উত্তর প্রান্তে মহাসিং নদী। নদীর ওপারে পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রাম। এর পাশে আছে জয়কলস ইউনিয়নের আসামপুর ও পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের বাদুল্লাপুর ও শরিয়তপুর গ্রাম। পাগলাবাজার থেকে এই গ্রামগুলোকে পৃথক করে রেখেছে মহাসিং নদী। জয়কলস ইউনিয়নের আসামপুর, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের কাদিপুর, পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের বাদুল্লাপুর, শরিয়তপুর, চিকারকান্দি, রনসী গ্রামের মানুষ আদিকাল থেকে যাতায়াত ও বাজার সদাই করেন নৌকা যোগে পাগলা বাজারে এসে। এখনও এই এলাকার মানুষজন পাগলা বাজার হয়েই যাতায়াত ও কেনাকাটা করেন। মহাসিং নদীতে ব্রিজ না থাকায় চরম দুভোর্গে জীবন যাপন করছেন তারা। চলাচলের একমাত্র ভরশা খেয়া নৌকা। বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ ও স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় যাতায়াত করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাগলা বাজারের উত্তর প্রান্তে রয়েছে বিশাল মাছ বাজার। পাশেই মহাসিং নদী। নদীতে অসংখ্য ছোট ছোট নৌকা। এই নৌকা দিয়ে যাতায়াত করেন কাদিপুর, আসামপুর, বাদুল্লাপুর, রনসী, চিকারকান্দি গ্রামের মানুষ। নৌকাগুলো একেবারে লোড করে নৌকার মাঝিরা ঘাট ছেড়ে যাচ্ছেন। তারপাশা—পাশিরাখায় খেয়া নৌকা দিয়ে নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন কাদিপুর ও আশপাশের মানুষজন। দেখার হাওর থেকে বিভিন্ন এলাকার জেলেরাও ছোট—ছোট মাছ ধরার নৌকায় করে পাগলা বাজারে আসছেন মাছ বিক্রি করার জন্য। তবে দিনের বেলা এই নৌÍযোগাযোগ থাকলেও রাতের বেলায় কোন নৌকা বা খেয়া নৌকা থাকে না। রাতে এই এলাকার কেউ অসুস্থ হলে মারাত্মক দুভোর্গে পড়তে হয় এই এলাকার মানুষের।
কাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল হক জানান, জন্মের পর থেকেই আমরা খুব কষ্ট করে যাতায়াত করছি। আমাদের বাবা—দাদারাও এই কষ্ট করে গেছেন। এখন ডিজিটাল যুগে এসেও আমাদের কষ্টের কোন সমাধান হয়নি। আমাদের বলার কিছু নাই। আমাদের ছেলে মেয়েরা ঠিক মত স্কুল কলেজে যাতায়াত করতে পারে না। রাতে কেউ অসুস্থ হলে রোগীকে দ্রæত হাসপাতালে নেওয়া যায় না, সকালের অপেক্ষা করতে হয়। এরই মধ্যে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। কেউ কেউ মারাও যান। এভাবেই আমাদের জীবন চলছে।
কাদিপুর গ্রামের সুজেরা বেগম জানান, আমাদের ছেলে—মেয়েরা ঠিক সময়ে স্কুলে যেতে পারে না। আমাদের খুব কষ্ট করে খেয়া নৌকা দিয়ে নদী পারাপার করতে হয়। মেহমানদের আমাদের গ্রামে আসতে হয়ে অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সেই সাথে কোন গর্র্ভবতী মহিলার ডেলিভারি সময় হলো দ্রæত হাসপাতালে নেওয়া যায় না। আমরা এই নদীতে একটি ব্রিজ চাই। ব্রিজ হলে আমাদের ভাগ্যের পরির্বতন হবে।
কাদিপুর গ্রামের সমাজসেবী সৈয়দুর রহমান সৈয়দ জানান, এই নদীতে এইটি সেতু খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মানুষ যেভাবে স্বপ্ন দেখেছিল পদ্মা সেতুর, তেমনি আমরা এই এলাকার মানুষ হিসাবে আমাদের মাহাসিং নদীর পাগলা—কাদিপুর অংশে স্বপ্ন দেখি একটি সেতুর। আর এই স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন. আমাদের এলাকার পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি। তিনি আমাদেরকে প্রথম থেকেই বলে আসছেন আমাদের মহাসিং নদীতে সেতু করে দিবেন। আমাদের একটাই দাবি আমরা পাগলা—কাদিপুরে এই সেতুটির বাস্তবায়ন চাই। মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি মহোদয়ের কাছে আমাদের এলাকাবাসীর জোর দাবি এই ব্রিজটি যেন দ্রæত বাস্তবায়ন করেন।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী তারেক জানান, এই ব্রিজ নিমার্ণের প্রক্রিয়া চলমান আছে। আমরা সার্ভে করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয় থেকে আরেকটি টিম ব্রিজটির এস্টিমেট তৈরি করবেন। এরপরে এই ব্রিজের টেন্ডার আহ্বান করা হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে আশা করি খুব শীগ্রই এই ব্রিজটির কাজ শুরু করতে পারবো।