দেশের খবর

ফরিদপুরে কাঠের বিকল্প হিসেবে বাড়ছে গোবরের লাঠির চাহিদা

ফরিদপুরে জ্বালানি হিসেবে কাঠের বিকল্প হিসেবে গোবরের লাঠির চাহিদা বাড়ছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের  দাম বাড়ার কারণে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহবধূরা নিজের গাছের খড়ি বা গ্যাস দিয়ে রান্না করতে পারলেও চরম বেকায়দায় পড়েছেন নিম্ন আয়ের বধূরা। ফলে নিম্ন-মধ্য আয়ের মানুষ গোবর কুড়িয়ে কেউ গোবরের লাঠি তৈরি করে নিজেদের জ্বালানির চাহিদা মিটিয়ে আবার অনেকে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। জ্বালানির অভাব দূর করতে ইতিমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গোবরের লাঠি।

জেলার ৯টি উপজেলার নারীরা এই গোবরের লাঠি নিজেদের জ্বালানির চাহিদা মিটিয়ে, আবার অনেকে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। জ্বালানির অভাব দূর করতে ইতিমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গোবরের লাঠি।

স্থানীয়রা ভাবে খোঁজে নিয়ে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলার যেসব বাড়িতে গরু আছে। সেসব বাড়ির বেশিরভাগ নারী ও শিশুরা গবরের লাঠি তৈরি করে। অগ্রহায়ণ থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত গবরের লাঠি তৈরি হয়। আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসের জ্বালানি রেখে বাকি জ্বালানি বিক্রি করে দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও দেখা গেছে সারাবছরই গোবরের লাঠি বানানোর কাজে ব্যস্ত থাকে নারীরা। এতে করে নিজের রান্নার কাজের জন্য যেমন জ্বালানি ঘাটতি থাকছে না। অপরদিকে পরিবারগুলো আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছে। তৈরি করা গবরের লাঠি বিক্রি করে আয়ও করছেন অনেকে।

সরেজমিন দেখা যায়,কিছু  অসচ্ছল নারীরা রাস্তার পাশে, মাঠঘাট বা গবাদি পশু বিচরণের স্থান থেকে গোবর সংগ্রহ করেন। গোয়ালঘর থেকেও গোবর সংগ্রহ করেন অনেকে। বাড়ির কাজের ফাঁকে শলা তৈরি করেন নারীরা। পাটকাঠি ও বাঁশের কঞ্চিতে মুঠো মুঠো গোবর মাখিয়ে তৈরি করা শলাগুলো রোদে শুকিয়ে চার-পাঁচ দিনে বিক্রির উপযোগী করা হয়। 

ফরিদপুর জেলার মধুখালি উপজেলায় জাহাজপুর এলাকায় কথা হয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মহিলা বলেন, জ্বালানি সংকট ও গ্যাসের দর বৃদ্ধি পাওয়ায়  গোবর সংগ্রহ করে জমিয়ে রাখি। শীতকাল এলে সেই গোবর দিয়ে গোবরের লাঠি  তৈরি করে মাঠে শুকাই।এইভাবে  শুকনো মৌসুমে মুঠি তৈরি করে শুকিয়ে ঘরে মজুত করে রাখি। বর্ষাকালে এলে খড়ির  খুব অভাব হয়। এ সময় কাঠের  ও সিলিন্ডার কেনার মত টাকা থাকে না। শুকনো ঝরা পাতাও পাওয়া যায় না। এ দুঃসময়ে গবরেরলাঠি অনেক উপকারে আসে।

শুকুরন নামে একজন মহিলা জানান, এক মণ শুকনা খড়ি ২৫০-৩০০ টাকা, এক সিলিন্ডার গ্যাস এর দাম ১২০০-১৪০০ টাকা । তাই খড়ি বা গ্যাস না কিনে গোবরের লাঠির দিকে ঝুকেছে অনেকে। কারণ গোবরে লাঠি একশত বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা।

আছিয়া খাতুন বলেন বলেন, জ্বালানি কাঠের বিকল্প হিসেবে গোবরের লাঠি পরিবেশের জন্য ভালো। এভাবে গোবর দিয়ে জ্বালানি তৈরি করে কেউ বাড়তি আয়ও করতে পারেন। 

ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী জানান, অস্বচ্ছল পরিবারের পাশাপাশি গ্রামের অনেক স্বচ্ছল পরিবারও রয়েছেন, যারা গবাদি পশুপালন করে একদিকে জ্বালানি চাহিদা মেটাচ্ছেন, অন্যদিকে গবরের লাঠি বিক্রি করে ঘোরাচ্ছেন ভাগ্যের চাকা।



সম্পর্কিত খবর