জাতীয়

বান্দরবান এলজিইডিতে সকল কাজে নিধারিত অংকে ঘুস দিতে হয়

বান্দরবান এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) বর্তমানে ঘুষের উৎসব চলছে  বলে অভিযোগ উঠেছে। জুন মাসের শেষ সময়ে, যখন সরকারী হিসাবের বছরের সমাপ্তি ঘটে এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলির ফাইনাল বিল প্রদান করা হয়, ঠিকাদারদের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ হারে ঘুষ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তাসাউরসহ অন্যান্য প্রকৌশলীরা এই সময়কে কাজে লাগিয়ে সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ঘুষ আদায় করছেন।

এলজিইডির এক ঠিকাদার জানান, "অনেক কাজ এখনও অসম্পন্ন, তবে প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করে পুরো বিল তুলে নিচ্ছে ঠিকাদাররা। এতে প্রকল্পের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।" আরও অভিযোগ রয়েছে যে, নিবাহী প্রকৌশল  যিনি একাধিক কাজের তদারকি করছেন, ঠিকাদারদের কাছ থেকে চূড়ান্ত বিলের জন্য ১৫ শতাংশ ঘুষ নেন। এমনকি, কাজের রিভাইজ বা রিকাস্টের জন্য তিনি সাইট পরিদর্শন না করে, বাস্তবে কাজ না দেখে, ১-২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

এছাড়া, ব্যাচ ঢালাই, ছাদ ঢালাই কাজের জন্য তিনি ৫-১০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে ঘুষ আদায় করেন। অধিকন্তু, এলজইডিতে রোলারের অভাব থাকায় বাইরের রোলার ব্যবহারের অনুমতি নিতে গেলে তিনি ২০-৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এসব অনিয়মের ফলে প্রকল্পগুলোর গুণগত মানে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে এবং সরকারের টাকা অপচয় হচ্ছে।

এলজইডির টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও নানা অনিয়ম চলছে। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত ঠিকাদাররা একে অপরের সাথে সমঝোতা করে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারি ভাগ করে নিচ্ছে। ২৪ ও ২৬ জুনের টেন্ডারে ঠিকাদাররা পছন্দের প্রকল্প পাওয়ার জন্য ঘুষ দিয়ে থাকেন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী পছন্দের ঠিকাদারদের জন্য গোপন দরপত্র জানিয়ে দেন। বিনিময়ে তিনি ১৫ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করেন।

বান্দরবান এলজইডির কর্মকর্তাদের অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে স্থানীয় জনগণ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। কিছু ঠিকাদার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে উপজাতীয় লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ পেয়ে যাচ্ছে, যার ফলে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির প্রায় ২৫০টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই অনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত।

নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তাসাউর এবং তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তবে তাদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। স্থানীয় ঠিকাদাররা অভিযোগ করেছেন যে, "আমরা বারবার অভিযোগ দিলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, প্রকল্পগুলোর কাজ ঠিকমতো হয়নি, অথচ বিল উত্তোলন করা হয়েছে।"

এ ধরনের দুর্নীতি এবং অনিয়মের কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে এবং প্রকল্পের মান হ্রাস পাচ্ছে। এ পরিস্থিতি সরকারের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে, যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়।

 



সম্পর্কিত খবর