ঢাকা

মাটি ছাড়াই ককোপিটে চারা উৎপাদন, শিক্ষক জাকিরের মাসে লাখ টাকা আয়

নরসিংদীর পলাশে শিক্ষকতার পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে চারা উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছেন জাকির খান। উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের চরনগরদী গ্রামে ১০ বিঘা জমিতে ‘স্মার্ট এগ্রো কেয়ার’ নামে একটি কৃষি উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন তিনি। সেখানে মাটির পরিবর্তে ককোপিট ব্যবহার করে উৎপাদন করছেন বিভিন্ন জাতের আগাম সবজির চারা। এসব চারা বিক্রি করে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্মার্ট এগ্রো কেয়ারে সারি সারি ট্রেতে বেড়ে উঠছে বিভিন্ন জাতের সবজির চারা। পেঁপে, করলা, ধুন্দল, বরবটি, শসা, লাউ, টমেটো, ক্যাপসিকাম, মরিচ ও ডাঁটাসহ নানা ধরনের সবজির চারা উৎপাদন করা হচ্ছে এখানে। প্রচলিত মাটির পরিবর্তে নারকেলের ছোবড়া থেকে তৈরি ককোপিট ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে এসব চারা উৎপাদন করছেন তিনি।

জাকির খান জানান, তাঁর বাবা ও দাদা কৃষিকাজ করার সময় বীজ কেনার ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হতেন। এক জাতের বীজ কিনে অন্য জাতের ফসল পাওয়া কিংবা বীজের মান ভালো না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ার মতো সমস্যায় পড়তেন তাঁরা। পরিবারের এই অভিজ্ঞতা থেকেই কৃষকদের জন্য মানসম্মত বীজ থেকে উন্নত চারা উৎপাদনের চিন্তা মাথায় আসে তাঁর।

সেই চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং আধুনিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের দক্ষতা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন ‘স্মার্ট এগ্রো কেয়ার’।

ককোপিটে উৎপাদিত চারার বিশেষত্ব হলো, উপযুক্ত পরিচর্যায় এসব চারা সহজে নষ্ট হয় না এবং জমিতে রোপণের পর ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। ফলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এসব চারা রোপণে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকেরা আগাম জাতের সবজির চারা রোপণ করে মৌসুমের শুরুতেই উৎপাদিত সবজি বাজারজাত করতে পারছেন। এতে তুলনামূলক বেশি মুনাফা অর্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটিতে উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির চারা আকার ও জাতভেদে প্রতিটি ৪ থেকে ৬ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। চারা বিক্রি করে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন জাকির খান।

জাকির খানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো, স্বল্পমূল্যে আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত মানসম্মত চারা আরও বেশি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যাতে কৃষকেরা সঠিক জাতের ভালো চারা রোপণ করে অধিক ফলন ও মুনাফা অর্জন করতে পারেন।

কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি জাকির খান স্থানীয় বিদ্যাসাগর মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত থেকেও কৃষিতে তাঁর এমন উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

তাঁর এই উদ্যোগে পলাশ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়ে আসছেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির এমন উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। জাকির খানের এই প্রচেষ্টা একদিকে যেমন তাঁর আত্মকর্মসংস্থানের পথ তৈরি করেছে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকদের জন্য মানসম্মত চারা উৎপাদন ও আগাম সবজি চাষের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।



সম্পর্কিত খবর