পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার তোয়াক্কা না করে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের আট কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় গাছ কাটার মহোৎসব চলছে। এরইমধ্যে কম করে হলেও তিন থেকে চার হাজার গাছ কেটে নেয়া হয়েছে। সরেজমিনে মৌলভীবাজার শহরতলির পশ্চিম ও ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক এলাকায় মনু নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ এলাকায় গিয়ে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মনু নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ ও তার আশপাশের এলাকাজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির ঘন নিবিড় গাছগাছালির বাগান গড়ে ওঠে। স্থানীয়রা মূলত ১৯৮৪ সালের দিকে প্রতিরক্ষা বাঁধ ও আশপাশে গাছ লাগিয়ে বনায়ন তৈরি করেন। এতে পুরো এলাকায় সেগুন, শিরিষ, কড়ই, মেহগনিসহ কম করে হলেও বিশ থেকে ত্রিশ হাজার গাছের সমারোহ রয়েছে। ছোট-বড় মিলিয়ে এক একটি গাছের বয়স দশ থেকে ৩৫ বছরের ওপরে। একইসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে রয়েছে একাধিক পুরানো বাঁশঝাড়। এ সব গাছগাছালি এতোদিন পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি শিকরের মাধ্যমে বাঁধের মাটি আঁকড়ে ধরে প্রতিরক্ষা এ বাঁধকে শক্তি জুগিয়ে আসছিলো। সম্প্রতি এ বাঁধের পুনর্নির্মাণ কাজ হওয়ার কথা শুনে- বালিকান্দি খেয়াঘাট থেকে শুরু করে নতুনব্রিজ পর্যন্ত গাছ কাঁটার মহোৎসব শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত তিন থেকে চার হাজার গাছ কেটে নেয়া হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি আ স ম সালেহ সোহেল এসব পুরানো গাছ কাঁটায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পরিবেশ ধ্বংস করে দেশের উন্নয়ন করা যায় না। তার দাবি, গাছ রেখে উন্নয়ন করা হোক। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাবেদ ইকবাল জানান, ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে এসব গাছ থাকায় তারা এতে বাধা দিতে পারছেন না। এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন চৌধুরী জানান, অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।