আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্য ভ্রমণে পাসপোর্টে ভিসা স্টিকারের বদলে ই-ভিসা ব্যবহৃত হবে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশন। বার্তায় জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থা এখন ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হচ্ছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের জন্য যাদের ভিসা প্রয়োজন তারা শুধু ই-ভিসা পাবেন। পাসপোর্টে ভিসা স্টিকারের বদলে ই-ভিসা ব্যবহৃত হবে। বিস্তারিত জানতে www.gov.uk/eVisa এই ওয়েবসাইট ভিজিট করতে বলেছে হাইকমিশন।
এদিকে : ‘সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই করেই ভিসার জন্য জমা দিয়েছিলাম, কিন্তু আমার আবেদন রিজেক্ট (বাতিল করা) হয়েছে। কেন এমন হলো এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যাও আমি পাইনি।’ এভাবেই বলছিলেন শিক্ষার্থী ভিসায় অষ্ট্রেলিয়া যেতে ইচ্ছুক ঝিনাইদহের বাসিন্দা মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম। দেশটির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও শেষমেষ ভিসা জটিলতায় যেতে পারেননি তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ভিসার জন্য অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করছেন ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাইমিনুল খান ও তার পরিবার।
মোহাইমিনুল খান বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভিসা নিয়ে জটিলতা বেড়েছে। দেশটির নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা কিংবা কর্মী ভিসায় যেতে ইচ্ছুক এমন আরো কয়েকজন এবং ভিসা প্রসেসিংয়ের কাজে যুক্তদের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশিদের ভিসা না হওয়ার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা গেছে। প্রথমত, ভিসা আবেদনের সময় সঠিক নথি জমা না দিয়ে ভুয়া কাগজপত্রের ব্যবহার হচ্ছে ব্যাপকভাবে। অনেকেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতার সনদ, প্রশিক্ষণ সনদ এবং ব্যাংক স্টেটমেন্টের ভুয়া কাগজ জমা দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, ভ্রমণ ভিসায় কোনো দেশে গিয়ে থেকে যাওয়া, কিংবা একদেশে গিয়ে অন্য দেশে অবৈধভাবে চলে যাওয়ার প্রবণতাও অনেক। এর ফলে একদিকে যেমন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের ক্ষতি করছেন, তেমনি পরবর্তীতে সৎ উপায়ে যেতে চাওয়া অন্যদেরও ভিসা না পাওয়ার কারণ হচ্ছেন তিনি। এমনিতেই নানা কারণে বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা নিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক দেশ। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের বর্তমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন ব্যক্তিকে ভিসা দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট দেশের রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেয় অন্য দেশ। পাশাপাশি দুই দেশের সরকারের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টিও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশিদের ভিসা পাওয়ার হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। একদিকে অভ্যন্তরীণ নীতির কারণে ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলো ভিসা দেওয়ার হার যেমন কমিয়েছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশের শ্রমবাজারও বাংলাদেশিদের জন্য কার্যত বন্ধ।
অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও সিঙ্গাপুরে জনশক্তি ও শিক্ষার্থী ভিসায় কিছু মানুষ যেতে পারলেও সংখ্যা খুবই নগণ্য। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, এবং সিঙ্গাপুরের ভিসা কিছুটা নাগালের মধ্যে থাকলেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর ভবিষ্যত নির্ভর করছে। এছাড়া দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়ার হার কমিয়েছে পার্শবর্তী দেশ ভারতও। এমন পরিস্থিতিতে মেয়াদউত্তির্ণ নথি কিংবা অবৈধভাবে থেকে যাওয়া বাংলাদেশিদের ডিপোর্ট করা বা ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে গড়ে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশিকে নানা কারণে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।