আধিপত্যা বিস্তারকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরে রায়পুরের খাসেরহাট এলাকায় বিএনপির দু-পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহতের ঘটনার জেরে অন্তত ১৫টি বাড়িঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রুহুল আমিন,এবাদুল্লাহ গাজী ও আনোয়ার হোসেন মালসহ বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর,অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে ঘরের মালামাল লুটপাট করে নেয় তারা। এতে করে দু-পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা ও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে এই হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার জন্য শামীম গাজি ও ফারুক কবিরাজের সমর্থদের দায়ী করছেন একে অপরকে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন ভূইঁয়া বলেন, দুপক্ষের লোকজনই হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার সাথে জড়িত। ঘটনাস্থলে রয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করা হচ্ছে। নিহত সাইজ উদ্দিনের পক্ষ থেকে এখনো কোন মামলা দেয়া হয়নি। তবে বিকেলে মধ্যে মামলা রুজি করার প্রস্তুুতি নেয়া হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার ২নং চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ফারুক কবিরাজ ও উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব শামীম গাজী গ্রুপের মধ্যে আধিপত্যা বিস্তার মাছঘাট,মেঘনার চর,কাঁচাবাজার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টা ও সংঘর্ষ হয়। এসময় স্পেন প্রবাসী বিএনপি কর্মী সাইজ উদ্দিন নিহত হয়। আহত অন্তত ১৫জন আহত হয়। এদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় বিএনপি কর্মী আবু খাঁ, নজরুল কবিরাজ, হানিফ দেওয়ান,জসিম উদ্দিনসহ চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের চারজনের অবস্থায় আশংকাজনক। অন্য আহতদের লক্ষ্মীপুর ও রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি করা হয়।