উত্তরের হিমালয়কন্যা পঞ্চগড় যেন শীতের চাদরে মোড়ানো। ঘন কুয়াশার আবরণে ঢেকে গেছে পুরো জেলা। শিশির ঝরছে টুপটাপ বৃষ্টির মতো। শহরের সড়ক থেকে শুরু করে গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ, সর্বত্র যানবাহন চলছে হেডলাইটের আলো জ্বালিয়ে। গৃহস্থালির খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত কাটানোর চেষ্টা করছেন সাধারণ মানুষ।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানায়, আজ শনিবার ভোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ১০০ শতাংশ। গতকাল তাপমাত্রা ছিল সামান্য কম, ১২.৩ ডিগ্রি। দিনের তাপমাত্রাও কমে এসে দাঁড়িয়েছে ২৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ জানান, ঘন কুয়াশার কারণে আজ শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে। তবে তাপমাত্রা এখনো ১২ ডিগ্রির আশপাশেই রয়েছে।
ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশে ঘুরে দেখা গেল, দূরপাল্লার বাস, সিএনজি, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ নানা যানবাহন চলছে গতি কমিয়ে, হেডলাইটের আলোয় পথ খুঁজে। তবে প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
কিন্তু দিনমজুর ও শ্রমিকদের পেটের দায়ে শীতকে উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে। পাথর শ্রমিক কামাল হোসেন বলেন, “শীতের কারণে কাজে যেতে ইচ্ছে করে না, কিন্তু কাজ না করলে খাব কী? এই ঠান্ডায় হাত-পা জমে যাচ্ছে। তবু পরিবারের জন্য বের হতেই হয়।”
মাগুড়া গ্রামের শামসুল হক জানালেন, “আজ ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি চারপাশ ঘন কুয়াশায় মোড়া। শিরশির করে শিশির পড়ছে। মনে হচ্ছে শীত পুরোপুরি নেমে এসেছে।”
ভ্যান চালকরা বলছেন, ঠান্ডার কারণে যাত্রী কম। এক চালক বলেন, “ভ্যানে কেউ উঠতে চায় না। কিন্তু এই ভ্যান চালিয়েই সংসার চলে। শীতের কাপড় কিনতেও পারিনি, তার মধ্যে সর্দি-কাশিতে ভুগছি।”
শীতের দাপটে বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল ও আশপাশের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন রোগীরা। শিশু ও বয়স্কদের সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, এবং ডায়রিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসতে হচ্ছে।
পঞ্চগড়ের এই শীত যেন জীবনের এক নতুন চ্যালেঞ্জ। স্থানীয়দের মতে, পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা না গেলে সমস্যাগুলো আরও প্রকট হবে। জেলার মানুষের জন্য এখনই সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
শীতের এই কঠিন সময়ে পঞ্চগড়ের জীবনযাত্রা যেন প্রকৃতির সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প। হিমালয়ের হিমেল হাওয়ার শীতলতা এখানে নিয়ে আসে এক অনন্য আবহ। তবে এই শীত মোকাবেলায় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই হতে পারে আসল সমাধান।
বায়ান্ন/এএস/পিএইচ