সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের মানুষ এখানে পাসপোর্ট করতে গিয়ে ঘাঁটে ঘাঁটে হয়রানীর শিকার হন বলে জানিয়েছেন অনেকে। সালামি না দিলে হয়রানীর মাত্রা বেড়ে যায় কয়েকগুন। এই পাসপোর্ট অফিসের নানান অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর দুদুকের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অনুসন্ধান করে পাওয়া গেছে ওইসব তথ্য।
অভিযোগ রয়েছে, সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের লোকজন ঘুষ ছাড়া কিছুই বুঝেন না। ঘুষ লেনদেনের জন্যে রয়েছে একটি দালাল সিন্ডিকেট। এই দালাল সিন্ডিকেটের নাম মার্কা এজেন্সি। শতাধিক এজেন্সি পাসপোর্ট-এর দালালী করে থাকে মার্কা এজেন্সি হিসেবে। এজেন্সিগুলোর সমন্বয়ক রয়েছেন একজন। তাকে বলা হয় মার্কার রাজা। মার্কা এজেন্সির হাতে নির্ধারিত পরিমাণের অতিরিক্ত অর্থ না দিলে ফাইল নেয় না পাসপোর্ট অফিস। ঘুষের মার্ক না থাকলে ফাইল গ্রহণ করলেও ফিঙ্গার নেয় না কম্পিউটার সেকশন। ফাইল ফিঙ্গার নিলেও মাসের পর মাস দেবে না পাসপোর্ট। নানা অজুহাতে আটকে রাখবে আবেদন। এনকি পরিচালকের বাহ্যিক অনুমতিও কাজে আসবে না। কাজে আসবে শুধু টাকা আর টাকা। পাসপোর্ট অফিসে এমনও হয় যে পরিচালক আবেদন গ্রহণের অনুমতি দিলেও বাকি কাজ হয় না টাকা ছাড়া। বাহ্যিক অনুমতি এবং পরোক্ষভাবে টাকা ও মার্কা ছাড়া ছাড়া কাজ নেই।
অভিযোগে প্রকাশ সিলেটের বেসরকারী হাসপাতালের একজন নার্স পাসপোর্ট করতে যান। অফিসের পরিচালকের সুপারিশে একটি ফাইল জমা দেন। পরে তাকে ফিঙ্গার রুমের পাঠানো হয়। কিন্তু এরপরও ওই নার্সের আর কোন ধরণের ফিঙ্গার নেওয়া হয়নি। প্রায় তিন মাস পাসপোর্ট অফিসে আসা-যাওয়া করেও কোনভাবেই ফিঙ্গার নেওয়া হচ্ছিলনা তার। পররবর্তীতে একটি মার্ক এজেন্সির মাধ্যমে মার্ক ফি’র নির্ধারিত ঘুষের টাকা দিয়ে পাসপোর্ট জমা দেন। এরপর আর দেরি হয়নি। সাথে সাথে ফিঙ্গারও নেওয়া হয়।
আবেদন ফাইলে কোনো ধরণের কাগুজে বা আক্ষরিক প্রবলেম না থাকলেও সিলেট পাসপোর্ট অফিসে সরকারী ফি’র অতিরিক্ত আর্জেন্ট মার্কা ফি দিতে হয় ১৮শ’ টাকা এবং নরমাল বা অর্ডিনারী আবেদনে দিতে হয় ১২শ’ টাকা। এ টাকা থেকে ১শ’ পায় মার্ক এজেন্সি, ১ শ’ আবেদন গ্রহীতা এবং বাকি টাকা শতকরা হারে বন্টন করা হয়।