জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসছে। এই নির্বাচনের হাওয়া বইছে চারদিকে। আসন্ন নির্বাচনে কোন্ দল থেকে কে মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। কোন্ এলাকায় কে এমপি নির্বাচিত হলে জনস্বার্থ প্রধান্য পাবে তা নিয়েও কম আলোচনা হচ্ছে না। এই আলোচনায় উঠে আসছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামের তালিকা। স্থান পেয়েছেন নতুন নেতৃত্বের নাম।
সিলেট অঞ্চলও ওই আলোচনা থেকে পিছিয়ে নেই। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। এই আলোচনার মধ্য দিয়েই বের হয়ে আসছে জনবান্ধব প্রার্থীদের নাম।
সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা নিয়ে সিলেট-৪ আসন গঠিত। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ। এই আসনে আওয়ামী লীগসহ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থীর নাম আলোচনায় উঠে আসছে।
স্থানীয়রা আগামী সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জনবান্ধব প্রার্থী কামনা করছেন। এই আলোচনায় স্থান পেয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আব্দুল হাকিম চৌধুরী। স্থানীয়রা স্বপ্ন দেখছেন এই প্রার্থীকে নিয়ে। নানান কারণে তিনি জনপ্রিয়তার ব্যারোমিটারে অনেক এগিয়ে রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৭১ সাল থেকে সিলেট-৪ আসনে সংসদ সদস্য হয়ে আসছেন অস্থানীয়রা। স্থানীয় পর্যায়ে কোনো নেতাকে রাজনৈতিক দলগুলো মনোনয়ন না দেয়ায় অস্থানীয়দের দখলে রয়েছে আসনটি। এই শূন্যতা কাটিয়ে উঠতে স্থানীয়রা বারবার উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু কোনো উদ্যোগই সফল হয়নি। এবার ওই আসনের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকে সংসদ সদস্য হিসেবে বেছে নিতে চান তারা। এজন্য তারা ঐক্যবদ্ধ। গোয়াইনঘাট উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরীকে ঐক্যবদ্ধভাবে বেছে নিয়েছেন এই আসনের তিন উপজেলার বিএনপি। বিএনপি নির্বাচনে গেলে তারা আব্দুল হাকিম চৌধুরীকে নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামবেন। বিজয় ছিনিয়ে নেবেন বিএনপির পক্ষে।
স্থানীয়রা জানান, আব্দুল হাকিম চৌধুরী ১৯৭৮ সালে যুবদলের রাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৭৮ সালেই গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা আহŸায়ক হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপির আহŸায়ক কমিটির আহŸায়ক, সিলেট জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হয়েছিলেন। সিলেট জেলা বিএনপির আহŸায়ক কমিটির সদস্য হয়েছিলেন দুইবার। সহসভাপতি ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির।
স্থানীয়রা জানান, আব্দুল হাকিম চৌধুরী ১৯৯৯ সালে প্রথমবারের মতো নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সেই থেকে দীর্ঘ ২০ বছর তিনি জনপ্রতিনিধি ছিলেন। ২০০৯ সালে গোয়াইনঘাট উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দ্বিতীয়বার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ২০১৪ সালে। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচন বিএনপি বয়কট করে বিএনপি। আব্দুল হাকিম চৌধুরী দলের সিদ্ধান্তে সরে দাড়ান নির্বাচন থেকে।
স্থানীয়রা জানান, আব্দুল হাকিম চৌধুরী গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছে মানবিক নেতা হিসেবে ইতোমধ্যে খ্যাতি অর্জন করেছেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো তার মজ্জাগত স্বভাবের মধ্যে রয়েছে।
করোনা দুর্যোগের সময় আব্দুল হাকিম চৌধুরী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে ছুটে গেছেন। ঘরবন্দি মানুষের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন খাদ্য সামগ্রীসহ স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রী। প্রতিদিনই তিনি ব্যক্তিগত তহবিলের টাকা ব্যায়ে দলের ব্যানার ব্যবহার করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার তৃণমূল পর্যন্ত ছুটে গেছেন তিনি। সাথে থাকতেন দলীয় সাহসী কর্মীরা।
২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় আব্দুল হাকিম চৌধুরী হাজার হাজার পানিবিন্দ মানুষকে উদ্ধার করে পৌঁছে দিয়েছেন আশ্রয় কেন্দ্রে। বন্যার্ত মানুষের জন্যে ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করেছেন। ব্যাবহার করেছেন দলীয় ব্যানার। বানভাসী মানুষের খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। স্বাস্থ্যসামগ্রী তুলে দিয়েছেন বানভাসী মানুষের হাতে। লুঙ্গি, শাড়ীসহ প্রয়োজনীয় কাপড় পৌঁছে দিয়েছেন অসহায় মানুষের কাছে। এখানেই শেষ নয়। সিলেট-৪ আসনটি দুর্যোগ প্রবণ এলাকা। একটুখানি বৃষ্টি হলেই এই এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। খেটে খাওযা মানুষগুলো অসহায় পড়েন। পর্যাপ্ত সহযোগিতা নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো আব্দুল হাকিম চৌধুরীর নিত্যদিনের কাজ।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে আব্দুল হাকিম চৌধুরী বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি মনোনয়ন চাইবেন। মনোনয়ন লাভ করলে অবশ্যই তিনি বিএনপিকে বিজয় উপহার দিতে পারবেন।