বেপরোযা হয়ে উঠেছে সিলেটের কানাইঘাটের মাদক ব্যবসায়ীরা। প্রতিরোধকারীদের সহযোগিতা থাকায় তারা অনেকটা প্রকাশ্যে অবৈধভাবে মাদক আনছে ভারত থেকে। মাদক থাবা ছড়িয়ে দিচ্ছে স্থানীয় পর্যায়েও। খুচরা বাজারের আস্তানা বসিয়ে প্রকাশ্যেই বিক্রি করা হচ্ছে মাদক। উঠতি বয়সের যুবকরা ওই মাদকের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে উঠছেন। ফলে স্থানীয় অভিবাবকরা শঙ্কিত হয়ে উঠেছেন তাদের সন্তানদের নিয়ে।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ নিয়ে বারবার আলোচনা হয়। মাদকের থাবা থেকে স্থানীয় যুব সমাজকে রক্ষার দাবি উঠে। কিন্তু দাবি বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় না রহস্যজনক কারণে। অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে ওইসব তথ্য।
স্থানীয়রা জানান, কানাইঘাট থানার প্রায় ৮ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। বাংলাদেশ বর্ডাার গার্ড পোস্ট রয়েছে ২ টি। পোস্ট দুইটি হচ্ছে সুরইঘাট ও মুলাগুল। সুরইঘাট, মুলাগুল ও লোভাছড়ার আশপাশ সীমান্ত হয়ে প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ মাদক ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে। বিশেষ করে ডোনা সীমান্ত দিয়ে মাদক এনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচারে একাধিক পথ ব্যবহার করা হয়। যার মধ্যে অন্যতম লোভাছড়া নদী ও সড়কের বাজার পথ।
ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা হয় অফিসার চয়েজ মদ, ইয়াবা, ফ্যানসিডিল, গাঁজা প্রভৃতি। এসব মাদকের বিনিময় মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা হয় বাংলাদেশি ওষুধ ও স্বর্ণ। ওষুধ ও স্বর্নের বিনিয়ে মাদক আনলে তাতে মুনাফা হয় অনেক বেশি। ফলে কানাইঘাট সীমান্ত ওষুধ ও স্বর্ণের চোরাচালানের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, অবৈধ পথে মাদক আমদানিতে স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল প্রায় সবাই জড়িত। কতিপয় রাজনৈতিক ক্যাডার নিয়মিত চাঁদা পেয়ে থাকে। পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতি সপ্তাহে চাঁদা সংগ্রহ করে রায়হান ও সুমন। অন্যান্য সেক্টরে মাসিক চাঁদা চলে যায় নিয়মিত। চাঁদা নিয়ে কোনো ধরণের টালবাহানা হলে শুরু হয় অভিযান। মাদকসহ আটক হয় মাদক কারবারিরা। মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় প্রায় কুড়ি জনের নাম। যার মধ্যে অন্যতম কালা মিয়া, মকবুল হোসেন ও শাহিন। মাদক ব্যবসার মূল গডফাদার থাকে অন্তরালে।
স্থানীয়রা জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা কৌশলে মাদকের থাবা ছড়িয়ে দিচ্ছে গ্রামীণ জনপদে। কানাইঘাটের শাপলা চত্বর পয়েন্ট, নন্দিরাই বাইপাস, ডালাইরচর, সড়কের বাজার প্রভৃতি এলাকায় রয়েছে মাদকের খুচরা বাজার। এসব বাজারে প্রকাশে বিক্রি হয় ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক দ্রব্য। দেখা গেছে সন্ধ্যার আগে বা পরে এসব বাজারকে কেন্দ্র করে উঠতি বয়সের যুবকদের আনাগোনা লেগে যায়।
স্থানীয়রা জানান, কানাইঘাট উপজেলাটি ধর্মপ্রাণ এলাকা। এই এলাকায় অনৈতিক কর্মকান্ডে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করা হয়। কিন্তু মাদক প্রতিরোধে কেউ সাহস পান না। কারণ মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললে স্থানয়ীরা নানান ধরণের হয়রানির শিকার হন। নানান ধরণের মামলার আসামি হতে হয়। এসব কারণে কেউ মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না। ফলে মাদক বিস্তার ঘটছে হুহু করে। অভিভাবকরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কানাইঘাট-সুরইঘাট রাস্তায় গত ১০ আগস্ট রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪২ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করে। আটক করে মখলিছুর রহমান নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে।
গত ১২ মে দর্পননগর গ্রামের সুরমা নদী ডাইকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৯২ বোতল ভারতীয় মদ করিম নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। গত ২৪ আগস্ট পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৯০ পিস ইয়াবা টেবলেট আটক করে। গ্রেফতার কওে এনাম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীকে।
পুলিশ গত ১৯ জুলাই ২১০ বোতল মদসহ আজমল হোসেন কালাকে গ্রেফতার করে। স্থানীয়রা বলেছেন, পুলিশ মাঝে মধ্যে এভাবে লোকদেখানো অভিযান চালায়।