ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন পালের বিরুদ্ধে অবসর গ্রহণের পরও বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, আর্থিক হিসাব-নিকাশ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তর না করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থবিরতা কাটিয়ে সার্বিক কার্যক্রম সচল করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত ১ অক্টোবর কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ (ইউএনও) এর নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুদ্দীন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন পাল চাকরির নির্ধারিত বয়সসীমা পূর্ণ হওয়ায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অবসর গ্রহণ করেন। প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী অবসর গ্রহণের পর বিদ্যালয়ের যাবতীয় নথিপত্র, আর্থিক হিসাব-নিকাশ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু অবসর গ্রহণের পরও চিত্তরঞ্জন পাল বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক কাগজপত্র, আলমারির চাবি, আর্থিক রেজিস্টারসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি।
ফলে বিদ্যালয়ের নিয়মিত দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন সহকারী প্রধান শিক্ষক। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে তিনি।
অভিযোগকারী সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুদ্দীন বলেন, বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও দায়িত্ব যথাসময়ে হস্তান্তর না করায় প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন আহয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। কিন্তু অভিযোগ দিয়েও আমরা এর কোন সুরাও পাচ্ছিনা।
সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন পালকে বিদ্যালয়ের যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, হিসাব-নিকাশ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশনা প্রদানসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
উক্ত অভিযোগপত্রের অনুলিপি ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির কাছেও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন পালের বক্তব্য নিতে তার মোঠা ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লিখিত অভিযোগের বিষয়টি আমি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছি।
কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) গিয়াস উদ্দিনের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় সদ্য বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইউএনও মহোদয়ের নিকট লিখিত অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত করছি। বিষয়টি বেশ জটিল। স্থানীয় লোকজনের সাথে ওই প্রধান শিক্ষকের পূর্বের গোলযোগ রয়েছে। এসব নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। তবে কেন কি কারনে তিনি বিদ্যালয়টির সমস্ত কিছু বুঝিয়ে দিচ্ছেন না সে ব্যাপারে অতি দ্রুতই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাব আমরা।
বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে বিষয়টির দ্রুত সমাধান প্রয়োজন বলে ভুক্তভোগীরা মনে করেন ।