দেশের খবর

কথা রাখেননি চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা

অসংখ্য অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠার পরেও এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের কুমিরা রেঞ্জ কর্মকর্তা আলম, ধুরুং বন বিট কর্মকর্তা অবণি কুমর। উত্তর বনবিভাগের বভিাগীয় বন র্কমর্কতা মোঃ সফিকুল ইসলাম যোগদানরে পর সংবাদ মাধ্যমে বলেছিলেন অভিযোগ উঠা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু বিভাগীয় বনকর্মকর্তার আশ্বাস কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে গেল। কোন তদন্তই হয়নি। 

এদিকে কুমিরা রেঞ্জ কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতিদিন ৪-৫ লাখ টাকা ঘুষ আদায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি থেকে কাঠ পাচার, স-মিল, কাঠের গুদাম, ব্রিকফিল্ড ও কাঠের দোকান থেকে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ফৌজদারহাট চেকস্টেশনে ‘মাটিটা রিসোর্ট’-কে বনভূমি দখল ও কাঠ কাটার সুযোগ দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। কুমিরা রেঞ্জ থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার অবৈধ আয় হয়, যার একটি অংশ নিয়মিত উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় যাতে তারা নীরব থাকে।

মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে আগেও বান্দরবান ও ফৌজদারহাট চেকস্টেশনে দায়িত্ব পালনের সময় কোটি টাকার চাঁদাবাজি ও কাঠ পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী ও অসাধু বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম বনবিভাগে দুর্নীতি আজ প্রতিষ্ঠিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। অভিযোগের পর অভিযোগ উঠলেও কার্যকর তদন্ত বা শাস্তি হয়নি। বরং সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু ব্যক্তিগত দুর্নীতি নয়, বরং গোটা বনবিভাগে গড়ে ওঠা সংঘবদ্ধ চক্রের ভয়ঙ্কর দৌরাত্ম্য। এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হলে এখনই প্রয়োজন কঠোর অভিযান, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

অপর দিকে ধুরুং বন বিটের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা পরিবেশ ও সরকারি সম্পদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের এই কর্মকর্তা বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে পাচার ও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ঘর নির্মাণে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হল, তিনি বটতলীর সূর্য কুমার ত্রিপুরার মাধ্যমে ১৬টি আকাশমনি গাছ বিক্রি করেছেন। এছাড়াও, তিনি কাউয়া কাটায় ২০১৫ সালে বাঁশ বাগান থেকে গাছ বিক্রির মাধ্যমে বনাঞ্চল থেকে নানা প্রজাতির গাছ কেটে বিক্রি করেছেন। এসব কার্যক্রম বন বিভাগের নিয়মনীতি ও পরিবেশ রক্ষার জন্য ক্ষতিকর। অপরদিকে, অবণি কুমার রায় অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কবরস্থান টিলায় ঘর তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে অবৈধ লেনদেনে যুক্ত হয়েছেন। এমনকি তিনি স্থানীয় দফাদারের ছেলেকে এবং অন্যদের ঘর তৈরীতে সহায়তা করেছেন, যা সরকারের

নীতির বিরুদ্ধে। এসব কাজ স্থানীয়দের মধ্যে প্রভাব বিস্তার ও অসৎ উপায়ে লাভের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এছাড়াও, অভিযোগ রয়েছে যে, ধুরুং বন বিটের চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন সরকারি কাঠ পাচার হচ্ছে। কাঠ ব্যবসায়ীরা সরকারি বাগানের গাছ কেটে সেগুলো নিরাপদ স্থানে স্তুপ করে রেখে, রাতে সড়কপথ ও ধুরুং নদী দিয়ে পাচার করছে। এর ফলে দৈনিক লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে। 

 



সম্পর্কিত খবর