পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে চার বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। একই সঙ্গে পৃথক এলাকায় ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশইন হওয়া পঞ্চগড় শহরের শ্যামলী কাউন্টার থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় আরও ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শারিয়ালজোত বিওপি ক্যাম্পের আওতাধীন ফরেস্ট এলাকা থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে চারজনকে আটক করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শারিয়ালজোত বিওপির টহলদল অভিযান চালিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় চারজনকে আটক করে। বিজিবির হাতে আটক ব্যক্তিরা হলেন— কুমিল্লার নাসিরনগর উপজেলার ব্যাংগোতা গ্রামের শিপন (১৯), সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামের হাফিজুল (২১), সুনামগঞ্জের বনগাঁও গ্রামের সাব্বির (১৫) এবং একই গ্রামের রাহান (১৩)।
এদিকে একই দিন সকালে ভারত থেকে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশে পুশইনের পর পঞ্চগড় শহরের শেরেবাংলা পার্কের শ্যামলী কাউন্টারে ছয়জন অবস্থান নিলে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। আটককৃতদের দাবি, গত পাঁচ বছর ধরে তাঁরা ভারতের কাশ্মীরে অবস্থান করে বিভিন্ন কাজ করে আসছিলেন। গত ৪ এপ্রিল ভারতীয় পুলিশ তাঁদের আটক করে। পরে সোমবার গভীর রাতে বিএসএফ পঞ্চগড়ের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দিয়ে তাঁদের বাংলাদেশে পাঠায়। এরপর তাঁরা নিজ গ্রামে ফেরার জন্য শ্যামলী কাউন্টারে গেলে আটক হন।
সন্দেহজনকভাবে কাউন্টারে আটককৃতরা হলেন— সুনামগঞ্জের বাচ্চু মিয়া (৬০), তাঁর স্ত্রী আমিনা বেগম (৫৫), মেয়ে দিলারা বেগম (২৮), সিলেটের মফিজ আলী (২৫), সুনামগঞ্জের সুমন (২০) ও সজীব মিয়া (১৯)।
পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নিয়মিত টহল ও অভিযানে চারজনকে আটক করা হয়। তাঁরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। এ ঘটনায় তাঁদের তেঁতুলিয়া মডেল থানায় হস্তান্তর করে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে পঞ্চগড় শহরে সন্দেহজনকভাবে আটক হওয়া ছয়জনের বিষয়টি তাঁদের জানা নেই বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শ্যামলী কাউন্টারে পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছে। তাঁদের পরিচয় নিশ্চিতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে তাঁরা পুশইন হয়েছেন কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।