দেশের খবর

কুষ্টিয়া ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পৌরসভার অভিযান

কুষ্টিয়া শহরকে দখল ও যানজট মুক্ত করতে মঙ্গলবার ১৯ (নভেম্বর) সকাল ১০ টা থেকে শহরের এন এস রোডের  মজমপুর গেট হতে বড়বাজার রেলগেট পর্যন্ত

অভিধান পরিচালনা করেন যৌথবাহিনী। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থপ্রতিম শীলের নেতৃত্বে অভিযানে সড়কের  দুই ধারে বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা ও বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়।

কুষ্টিয়া শহরের ব্যস্ততম সড়ক (এন এস রোড) এর দুই ধারে সহস্রাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এসব প্রতিষ্ঠানের মালামাল ফুটপাতের উপর রাখায় জনসাধারণের চলোচলের দুর্ভোগের পাশাপাশি শহরের তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। স্থানীয় দৈনিক শিকল পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ ও নাগরিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে  কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রশাসক এর নির্দেশে মঙ্গলবার সকালে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়। যৌথবাহিনীর এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে সাধারণ মানুষ বলেন,

শহরের ফুটপাত দখল করে অসংখ্য অস্থায়ী দোকান গড়ে উঠেছে। তাছাড়া অনেক দোকান মালিক তাদের প্রতিষ্ঠানের সামনে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করছে। বিষয়টি দুঃখজনক। তবে ভিন্নমত পোষন করেন ব্যবসায়ীরা। কুষ্টিয়া থানা মোড়ের রাসেল এর মালিক রাসেল আহমেদ বলেন, এই অভিযানটি পৌরসভার একচোখা অভিযান। তারা শহরের গুটিকয়েক দোকানের সাইনবোর্ড গুলা ভেঙে দুমড়ে মুছে দিয়েছে। আমরা পৌরসভা কে বিলবোর্ডের জন্য মাসে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা ভাড়া দিয়ে থাকে। আমাদের কোন প্রকার নোটিশ না দিয়ে বিলবোর্ড গোলা ভাঙ্গা তর মন নাই। এছাড়া বড়বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান ফুটপাতে মাল রাখার জন্য কুষ্টিয়া পৌরসভায় দেড়শ থেকে দুইশ টাকা চাঁদা রশিদের মাধ্যমে দিয়ে থাকে। আমাদের কোন প্রকার সতর্ক না করে ফুটপাতে থাকা মালামাল গুলো উচ্ছেদ করা পৌরসভার অন্যায় হয়েছে। এদিকে কুষ্টিয়ার সুকান্ত বিপনের কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেটের উপর তাদের রাগ ঝাড়তে থাকেন। এরপর অভিযানে নেতৃত্বকারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মার্কেটটি ভেঙ্গে পুনরায় অনেক সুযোগ-সুবিধা সহ নির্মাণ করতে নির্দেশ দেন পৌর কর্তৃপক্ষকে।

কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রধান  প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহমুদ রেজা চৌধুরী  জানান, ফুটপাতের উপর থেকে মালামাল সরিয়ে নিতে আর গত কয়েকদিন ধরে শহরে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তারি ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল দশটা থেকে দিনভর এই অভিযান পরিচালনা করা হয় এটা করা হবে।

কুষ্টিয়া সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি রফিকুল আলম টুকু জানান, কুষ্টিয়া শহর অত্যন্ত ব্যস্ততম। তাতে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করেছে অনেকেই। ইতোপূর্বে কুষ্টিয়া পৌরসভা নামমাত্র অভিযান চালালেও তাতে কোনো ফল আসেনি। অভিধান পরিচালনার শেষ হলেই ফুটপাতের চেহারা গুলো আবার আগের রূপেই ফিরে আসে। এবার যৌথ বাহিনীর অভিযান হাওয়ায় আশা করছি এইবার আগের মত হবে না।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম শীল জানান,নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে  সকাল থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। শহরকে নিরাপদ রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি জানান, এই অভিযানকে আমরা অভিনন্দন জানাই এবং কুষ্টিয়া পৌরসভা এই অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করে কুষ্টিয়া শহরকে দখল মুক্ত রেখে পথচারীদের হাঁটার রাস্তাটি দখল মুক্ত রাখবে এটাই আশা করে।

 



সম্পর্কিত খবর